লাগামহীন চালের বাজার

পেঁয়াজের পর অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজারও। চালের দাম বাড়বে না বলে খাদ্যমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তার ছিটেফোটাও নেই বাজারে। গত কয়েকদিনে সব ধরনের চাল কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি চালের বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৭৫০ টাকা, নাজিরশাইল ২৩৫০ থেকে ৩১০০ টাকায়। অথচ মাত্র দশদিন আগে এ বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছিলো ২০৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৪৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৯৫০ থেকে ২৭০০ টাকায়।

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা, ঊনত্রিশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, স্বর্ণা চাল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, চিনিগুড়া ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দশদিন আগে বাজারভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, নাজির ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ ৩৪ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, ঊনত্রিশ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, স্বর্ণা চাল ২৮ থেকে ৩০ টাকা, চিনিগুড়া ৯০ থেকে ৯২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) মিনিকেটে ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকায়। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সেটি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৩৫০ টাকায়। মানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। যেখানে মিনিকেট ৪২ থেকে ৪৫ টাকা ছিল তা হয়ে যায় ৪৮ থেকে ৫১ টাকা। আর বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়।

এছাড়া বিরি-২৮ চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে দুই টাকা। তবে খুচরা দোকানগুলোতে বিরি-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশি দরে। বুধবার নাজিরশাল ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকায়। প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের ধান-চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগাঁয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ছয় থেকে সাত টাকা। আর বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। বিরি-২৮ জাতের ধানের সরবরাহ কমায় চালের দাম বেড়েছে। মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

চালকল মালিকরা বলছেন, ধানের দামের সঙ্গে চালের বাজারের সামঞ্জস্য না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। বেশি দামে ধান কিনে কম দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। যে হারে ধানের দাম বেড়েছে, সে তুলনায় চালের দাম বাড়েনি। চিকন চালের দাম ৫০ টাকার মধ্যে থাকলে কৃষকরা ধানের দাম পাবেন বলে মনে করছেন তারা।

পেঁয়াজের পর চালের বাজার দাম বাড়ায় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের মতোই চালের বাজারেও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দায়ি না। মিলকল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।