এবার লাফিয়ে কমছে পেঁয়াজের দাম

ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পরই বাংলাদেশের বাজারে লাফিয়ে বেড়েছিল পেঁয়াজের দাম। একসময় যা ত্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল। ঠিক যেভাবে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল এবার একই কায়দায় কমতেও শুরু করেছে।

বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই খাদ্যপণ্যের দাম কেজিতে কমেছে ১০০ টাকার মতো।  নতুন দেশি পেঁয়াজ গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। তবে এখন বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৮০ টাকাতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিন মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৩০ টাকায়। এই পেঁয়াজের দামও গত সপ্তাহে ২০০ টাকার কাছাকাছি ছিল। চীন, মিশর ও তুরস্কের পেঁয়াজ গত সপ্তাহে  ১২০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭০ টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতে দেখা যায়, দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ, মিশর, তুরস্ক, চীন ও মিয়ানমারের পেঁয়াজে আড়ৎগুলো ভরপুর।

গত সপ্তাহে এসব আড়তে দেখা গিয়েছিল কেবল চীন ও মিশরের পেঁয়াজ। দেশি যে পেঁয়াজ ছিল তারও দাম ছিল প্রতিকেজি ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে। 

কারওয়ান বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মিশর ও চীনের পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমতে থকায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কিছুটা আতঙ্কে পড়েছেন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা।

তারা বলছেন, দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর গত দুই মাস ধরে বিক্রি যে হারে কমে গিয়েছিল, সেই পরিস্থিতির এখনও উত্তরণ ঘটেনি। আড়ৎ ও মুদি দোকানে এখনও পেঁয়াজের বিক্রি খুব কম।

এদিকে, মাত্র কয়েকদিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য বিশাল লাইন থাকত। একজন ব্যক্তির কাছে দুই কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হত না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঘণ্টা দুয়েক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। আবার শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।

তবে এখন পরিস্থিতি একদমই ভিন্ন। মিশর থেকে আমদানি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি করার জন্য ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও ক্রেতা নেই। মতিঝিলে দেখা যায়, ট্রাকের সামনে ক্রেতা ছিল মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। তারা লাইন ছাড়াই ট্রাকের সামনে থেকে যত কেজি ইচ্ছা তত কেজি পেঁয়াজ নিয়ে যাচ্ছিলেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় সারাদেশে পেঁয়াজের মারাত্মক সংকটে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫০ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে।

এ অবস্থা গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিরাজ করছিল। কিন্তু গত দুই তিন-দিন যাবত বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হওয়ায় এর হাহাকার তুলনামূলকভাবে কমেছে।