প্রবৃদ্ধিতে ভারত-চীনকে ছাড়িয়ে সেরা চারে বাংলাদেশ

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রতিবেদনটি বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উপরে আছে শুধু রুয়ান্ডা, জিবুতি ও গায়ানা। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে চীন, ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

সার্বিক বৈশ্বিক মানদণ্ডে এটি সুখবর বটে। তবে দুঃসংবাদও আছে। সেটি হলো সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিন্তু এ বছর তা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।

প্রতিবেদনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে (৩০ জুন) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে তা আরও কিছুটা বেড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।

অবশ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা আছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। গত অর্থবছরে এখানে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ে বেশ প্রবৃদ্ধি ছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে কিছুটা সুফল পেয়েছে। এ দেশে বড় প্রকল্পসহ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায় আস্থা আসছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, সুসংহত সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিকল্পনামাফিক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ, ব্যবসায় সহজ করার নানা উদ্যোগ ইত্যাদি বিবেচনা করেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে বিনিয়োগ ঘাটতি। এ ছাড়া আর্থিক খাতেও নানামুখী চ্যালেঞ্জ আছে, যা অর্থনীতিতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। রাজস্ব খাতের সংস্কারে অগ্রগতি না হওয়ায় কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ও উন্নয়নশীল দেশ গত বছরের সংকট কাটিয়ে নিজেদের উন্নয়ন ঘটাবে, এই আশা থেকেই বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও একই সঙ্গে তারা এ-ও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে ব্রাজিলের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে গত বছরের তুলনায় জিডিপি বাড়বে। মেক্সিকো ও তুরস্কে ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য ছিল। এ বছর ওই অবস্থার উন্নতি ঘটা উচিত বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।