এবার লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম

বাজারে মোটা ও চিকন চালের দাম এখন বাড়তির দিকে। মান ও প্রকারভেদে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০-১৫০ টাকা। এছাড়া সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এ বিষয়ে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মুষ্টিমেয় কয়েকটি রাইস মিল মালিক ও মজুদদারদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের কারণে দেশে সব ধরনের চালের দাম বাড়ছে। এজন্য উত্তরবঙ্গের রাইস মিল মালিক ও চালের করপোরেট কোম্পানিগুলোকে দায়ী করছেন তারা।

অন্যদিকে মিল মালিকরা বলছেন, সরকারের আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ধানের দাম এখন কিছুটা বাড়তির দিকে। এরই ধারাবাহিকতায় দাম বেড়েছে চালেরও।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় বস্তাপ্রতি চালের দর বেড়েছে ২শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দর। কেজিপ্রতি চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এসব বাজারে এক সপ্তাহ আগে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫শ থেকে ৪৭শ টাকার মধ্যে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে চিনিগুঁড়া চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২৫০ টাকায়।

অন্যদিকে মাত্র তিনদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২২শ টাকা, আটাশ চাল ১৭শ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা ২১শ টাকা থেকে ২৮শ টাকায়। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪শ ৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরনো) ২৫শ থেকে ২৫শ ৫০ টাকা, আটাশ চাল ১৮শ ৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২শ ৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়।

হঠাৎ করে চালের দাম বাড়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

চাক্তাই চালপট্টির ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুগন্ধি চালের দরবৃদ্ধির মাধ্যমে চালের বাজারে দাম বাড়া শুরু হয়। সবগুলো রাইস মিল কোম্পানির পক্ষ থেকে চিনিগুঁড়াসহ বিভিন্ন সুগন্ধি চালের দাম বাড়ানোর পর একপর্যায়ে অন্যান্য চালের দামও বেড়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় পাইকারি পর্যায়ে সংগ্রহ ও মজুদপ্রবণতাও বেড়ে যায়। দেশের প্রধান প্রধান মোকাম থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়।

দেশের অন্যান্য স্থানেও পণ্যটির দরবৃদ্ধির পেছনে মিল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, মিলগেটে চালের দাম বেড়েছে বস্তায় প্রায় ১০০-১৫০ টাকা। আবার আগের তুলনায় এখন কম সরবরাহ করছেন চালকল মালিকরা। ফলে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

কারওয়ান বাজারের চাল বিক্রেতা ও সিরাজ অ্যান্ড সন্সের সত্বাধিকারী খোকন বলেন, তিন/চার দিনের ব্যবধানে চালের দাম বস্তাপ্রতি ২শ থেকে ৫শ ৫০ টাকা বেড়েছে। এখন চালের বিক্রি কম হলেও মিলকল মালিকরা এ দাম বাড়িয়েছেন। সেখান থেকে বেশি দামে চাল কেনায় আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মিল মালিকরা চালের দাম কমালে আমাদের এখানেও দাম কমে আসবে।