করোনা আতঙ্কে শেয়ার বাজারে ধস

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরপরই সোমবার (১৬ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে।

করোনা আতঙ্কে দিশেহারা অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দেন। ফলে টপাটপ পড়তে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এতে দিনের লেনদেন শেষে মূল্য সূচকে বড় ধস হয়।

 সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯৬ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা চার দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে নেমে গেছে ৩ হাজার ৭৭২ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।

ছয় বছর পাঁচ মাসের মধ্যে ডিএসইএক্সের এটাই সর্বনিম্ন অবস্থান।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ৪০৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ডিএসইএক্স সূচক চাল হওয়ার পর ওই বছরেরই ২০ অক্টোবর সূচক নেমেছিল ছিল ৩ হাজার ৭৭১ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে।

তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতার কারণে পতনের ধারায় থাকা দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস।

গত তিন দিনে ৪২৩১ পয়েন্ট থেকে ডিএসইএক্স ৪৫৯ পয়েন্ট বা ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে।

দেশের আরেক বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচকের পতনও অব্যাহত রয়েছে। এদিন সিএএসপিআই ৫৫০ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে নেমেছে ১১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে।

সোমবার ডিএসইতে ৪০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা বেশি।

সিএসইতে ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি টাকা কম।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৩৩৩টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি দাম।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২টির, কমেছে ২৩৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির দাম।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পায়। পরের কার্যদিবসেই করোনাভাইরাস আতঙ্কে শেয়ারবাজারে স্মরণকালের মধ্যে সব থেকে বড় ধস নামে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৭৯ পয়েন্ট কমে যায়।