মন্দার ভেতরেও দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার প্রভাবে বেশিরভাগ দেশে প্রবৃদ্ধি অর্জন কমলেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সবার চেয়ে ওপরে লাল-সবুজের পতাকা।

শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে তিন শতাংশে দাঁড়ালেও সেক্ষেত্রে উল্টো দাপট দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রভাবে বেড়েছে মাথাপিছু আয়ও।

১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৮৮ ইউএস ডলার, তখন বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ছিল ৬৭৬ টাকা। এখন মাথাপিছু আয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৫২২ টাকা। দৈনিক হিসেবে প্রতিজন বর্তমানে ৫২৫ টাকা আয় করেন, যা আগের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৭৯-৮০ পর্যন্ত গড়ে ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ১৯৮০-৮১ থেকে ১৯৮৯-৯০ পর্যন্ত গড়ে ১১.২০ % , ১৯৯০-৯১ থেকে ১৯৯৯-২০০০ পর্যন্ত গড়ে ৭.২২ % , ২০০০-০১ থেকে ২০০৯-১০ পর্যন্ত গড়ে ৯.৯৬ % এবং ২০১০-১১ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত গড়ে ১২,৩৩ % হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৪৩তম দেশ এবং দ্রুত বর্ধনশীল দেশসমূহের মধ্যে পঞ্চম।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ক্রমেই দৃঢ় হয়েছে। ২০০০-১০ অর্থবছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৫৮ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ ১৯ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বঅর্থনীতি অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে সময় পারলেও বাংলাদেশ এতে ভালো করছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধি, সেই সঙ্গে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও শ্রমশক্তি। এর সঙ্গে বাড়তি সুবিধা যোগ করেছে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন একশ’ ইকনোমিক জোন। বাংলাদেশ এসব জোনে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করে আইএমএফ।