বাজার মূলধনে দেশের শীর্ষ চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে আইপিডিসি

ব্যাংক বহির্ভূত দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাজার মূলধনে শীর্ষে পৌঁছেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। এ তালিকায় আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকা বাংলা ফাইন্যান্স ও ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থে অবস্থান করছে।


এগিয়ে থাকা আইপিডিসির বর্তমান শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৬০ টাকা। আর বাজার মূলধন দুই হাজার একশ কোটি ৩০ লাখ টাকা। গত ৭ বছরে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। একই সময়ে ১২ গুণ ঋণ আর গ্রাহক পর্যায়ে ১৩গুণ আমানত বেড়েছে তাদের।


এতদিন ধরে বাজার মূলধনে দেশের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল আইডিএলসি। বর্তমানে তালিকায় দ্বিতীয় এই কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর ১ হাজার ৬০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাজার মূলধন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকা বাংলা ফাইন্যান্স। এরপরের অবস্থানে আছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং।


বাজার মূলধন হলো কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বা কর্পোরেশনের আকার পরিমাপের একটি পদ্ধতি। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগকারীদের কেনা শেয়ারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন নির্ণয় করা হয়।


তথ্য মতে, পরিশোধিত মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো আইডিএলসি শীর্ষে। তবে গত পাঁচ বছর ধরে প্রায় সব সূচকেই ভালো করে বাজার মূলধনে এগিয়ে গেছে আইপিডিসি।


কোম্পানি সূত্র বলছে, আইপিডিসি ঋণ, আমানত, আয় ও মুনাফায় গত পাঁচ বছরে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের ঋণ আর আমানত পোর্টফোলিও ছিল যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৩২ কোটি ৭০ লাখ এবং ৬ হাজার ৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর একই সময়ে তিন হাজার ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় এবং ৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।


এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসির কৌশলগত পরিবর্তন। বিশেষ করে ২০১৬ সালে কোম্পানিটির রিব্র্যান্ডিং হওয়ার পর তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের প্রতি জোর দিয়ে আসছে তারা।


কোম্পানি সূত্র বলছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে আইপিডিসির এই বিষয়গুলো একটা ইতিবাচক ধারনা তৈরি করেছে। আর তার ভিত্তিতেই বাজার মূলধনে দেশের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে আইপিডিসি।