উল্টো সেই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুললেন ভিসি

নানা কারণে আবারও গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। অতি সম্প্রতি আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেফা তুজ জিনিয়াকে এক সেমিষ্টারের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আলোকিত বাংলাদেশের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সামস জেবিনকে মারধর করায় আবারও আলোচনায় আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছেন ভিন্ন কথা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন জিনিয়াকে বহিষ্কারের কারণ জানিয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই জিনিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে ভিসি বলেন, ফাতেমা তুজ জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের বাজেট জেনে বিভিন্ন মালামাল বরাদ্দের সংবাদ লিখেছে। সে অতিরঞ্জিত করে লিখেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে ডিপিপি. আরডিপি হওয়ার আগেই মনগড়া রিপোর্ট করেছে। বিভিন্ন ওয়েব সাইট ও ভর্তি পরীক্ষার ওয়েব সাইট হ্যাক করে পরীক্ষা বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল সে।

তিনি বলেন, তাছাড়া ওই শিক্ষার্থী অনবরত তার ফেসবুকে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন মন্তব্য করে আসছিল। আমারসহ অন্য শিক্ষকদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছে ওই শির্ক্ষার্থী। এসব কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সাংবাদিককে সাময়িক বরখাস্ত করেননি। তারা একজন দোষী শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দিয়েছেন। আর এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থী আমার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একের পর এক মিথ্যাচার করে চলেছে। তারপরও সে আমার কাছে এসে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে আমি মাফ করে দিতাম।

সারা দেশের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে ভিসি বলেন, সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অল্প কিছু শিক্ষার্থী যদি বিপথে যায় বা অন্যায় করে তাদেরকে শাসন করার অধিকার অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোই দায় হয়ে যাবে। তবে সাময়িকভাবে বষ্কিকার করা হলেও তাদেরকে সংশোধন হবার সুযোগ দিয়ে তাদেরকে আবারও শিক্ষার সুযোগ দেয়া হয় বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন, জনংযোগ কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক, কর্মকর্তা, গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।