রাবি শিক্ষার্থীকে স্ত্রীর সামনেই মারধর, রগ কাটার চেষ্টা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার রগ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিচিতরা।

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফিরোজ আনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠের দক্ষিণ পাশে তালগাছের কাছ থেকে একটি মেয়ের চেচামেচি শুনে কয়েকজন এগিয়ে যায়। গিয়ে দেখে ফিরোজের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। এ সময় একটা মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা মাদার বখশ হলের দিকে দ্রুত চলে যায়। তারাই ছেলেটিকে আঘাত করেছে বলে সঙ্গে থাকা মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারা যায়।

তারা আরো বলেন, সঙ্গে থাকা মেয়েটির সঙ্গে কথা বললে মেয়েটি জানায় তাদের বিয়ে হয়েছে। তার বাড়ি রংপুর জেলায়। তারা একই কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তারা ঘুরতে বের হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন মেয়েটি। তবে কে বা কারা মেরেছে বলতে পারেনি সে।

অর্থনীতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ফিরোজ তার বান্ধবীকে হলে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে মোবাইল বা টাকা পয়সা দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দিতে না পারলে তখন তার মাথায় আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, ফিরোজকে ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ওটিতে নেওয়া হয়েছে। মাথায় সেলাই দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ছেলেটিকে রামেকে নিয়ে গিয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বহিরাগত না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এটা এখনও জানা যায়নি। তবে তারা ছিনতাই করতে আসেনি। ছিনতাই করলে তারা টাকা পয়সা কেড়ে নিতো। কিন্তু সেটাও করেনি। মাথায় আঘাত করেছে। তবে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো ধরনের প্রমাণ পায় তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।

এদিকে রাতের এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে রাত সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।  

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মাসুদ মোন্নাফ বলেন, একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে ক্যাম্পাসেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। জানতে পেরেছি শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, হামলাকারী বহিরাগত হোক বা ক্যাম্পাসের হোক বা কোনো ছাত্র সংগঠনের হোক, দোষীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।