শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সদা প্রস্তুত ওরা

‘মামা বঙ্গবন্ধু হলে যাবো, ভাড়া কত? কোন ভাড়া দিতে হবেনা মামা। কেন? পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থী বললেন, তোমাদের জন্য আমরা ফ্রি সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছি।’ 

আলাপচারিতাটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে হচ্ছিল। ঠিক তখনই দেখা গেল কিছু ভ্যানগাড়ি সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য। সামনে-পেছনে পোস্টার ঝুলে আছে। পোস্টারে লেখা ‘ইবির ভর্তি ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পরিবহন সুবিধা।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ সোমবার। যা চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। দূরদূরন্ত থেকে ছুটে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বেশকিছু সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও জেলা ছাত্রকল্যানের সদস্যরা। 

এরই মাঝে একটি সংগঠনের কার্যক্রম সবার নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি হলো ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফর হিউম্যানিটি (ইআরএইচ)। 

‘সহযোগীতায় হোক মানবতার সেবা’ এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে গত বছর থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। গতকাল রোববার বিকাল থেকে দেখা যায় এ সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম। 

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ইবি শাখার পক্ষ থেকে ৪-৬ নভেম্বর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘সার্বিক সহযোগীতা’ নামক হেল্পডেস্ক এবং প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ৪ টি ভ্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেকোন জায়গায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

রংপুর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, মেইন গেটে নেমেই দেখলাম সারি সারি কয়েকটি ভ্যানগাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। আমরা সম্পূর্ণ ফ্রিতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছি। অনেক কৃতজ্ঞতা জানায় সংগঠনটিকে। 

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল সাবা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এ সেবা করে যাচ্ছি। এবছর বানবাসীদের জন্য ত্রান নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম আমরা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের  বুনন, মুক্তিযুদ্ধা মঞ্চ, দূর্বার বাংলাদেশসহ প্রায় ৪০ টি জেলা ছাত্রকল্যান সমিতির সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সহায়তায়। মেইন গেটে কয়েকটি সংগঠন বসিয়েছে অভিভাবক কর্ণার। 

এছাড়া বিএনসিসি, রোভার স্কাউটের সদস্যরা মেইন গেটে মোট ৯টি স্টলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের সামনে দেখা গেল আরেকটি অভিভাবক কর্ণার। এখানে অভিভাবকদের চা-বিস্কুট, মুড়ি-চানাচুর এবং পানি-জলের ব্যবস্থা করেছেন প্রকৌশল অফিস কর্তৃপক্ষ। 

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশল (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, আজ প্রায় ১ হাজার অভিভাবককে আমরা বিভিন্ন সেবাদান করেছি। আগামী ২ দিনও এ সেবা অব্যাহত থাকবে।