দীর্ঘ আন্দোলনের সমাপ্তি, সচল হচ্ছে বুয়েট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে নেমেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যার জেরে বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা। অবশেষে সব দাবি মানার পর ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম।

তিনি বলেন, বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী র‌্যাগিং ও সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার শাস্তির নীতিমালার বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন গত ২ ডিসেম্বর একটি নোটিশ প্রকাশ করে এবং পরবর্তীকালে এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়। বুয়েট প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আন্দোলনের সমাপ্তি টানছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হোক। আমাদের মতো সারা দেশবাসী এই বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আশা করি আদালত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেশবাসীর আশা পূরণ করবেন।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেয় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকে আন্দোলনে নামেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।