‘স্বপ্ন পূরণ করতে এসেছি,পঙ্গু হতে নয়’

‘স্বপ্ন পুরণ করতে এসেছি-পঙ্গু হতে নয়, ক্যাম্পাসে রক্তপাত বন্ধ করো-জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর, ঘাতকের শাস্তি নিশ্চিত কর, আর কত হাড় ভাঙলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? পরিবহনের টালবাহানা মানিনা-মানব না’ সহ নানা প্লাকার্ড হাতে সবার। সবাই দাঁড়িয়ে একই কাতারে, দাবি একটাই ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ ও ঘাতকের উপযুক্ত শাস্তি।

প্রতিবাদের ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় ক্যাম্পাসের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের পাদদেশে এসব দাবিতে ও গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ২০ কিলোমিটার করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত রোববার ক্যাম্পাসের ডায়না চত্ত্বর এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাতুল আলম আরফাত। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এ ঘটনার পূনরাবৃত্তি রোধে ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালনা বন্ধের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বিজ্ঞান অনুষদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেই। আর কত ভাই পঙ্গু হলে প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে? এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই। ঔষধ তো দূরের কথা বরফ পর্যন্ত পাওয়া যায না সেখানে।

পরে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রনে রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড লাগানো এবং বিভিন্ন হল, মোড়, ভবন ও অনুষদগুলোর সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা।

এসময় আগামী শনিবারের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেয় শিক্ষার্থীরা।