নোয়াখালী মেডিক্যালে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন, আরটি-পিসিআর দিচ্ছে নোবিপ্রবি

অবশেষে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ কাজে সহযাত্রী হিসেবে থাকছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ। এই বিভাগের আরটি-পিসিআর মেশিন ব্যবহৃত হবে নমুনা পরীক্ষায়। তবে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কমপক্ষে তিন সপ্তাহ। বায়ো সেফ্টি সিস্টেম বসাতে এই সময়ের প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নোবিপ্রবিকে কাজে লাগিয়ে করোনা নমুনা পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এর প্রতি ফাইল নোট দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

জানা যায়, দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা নোয়াখালীতে সরকারি হিসেবে জানুয়ারি থেকে মার্চে তিন মাসে প্রায় ১৮ হাজার এবং শুধু মার্চ মাসেই প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী নোয়াখালীতে প্রবেশ করে। এদের বেশিরভাগই ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। ফলে এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় জেলা জুড়ে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝখানে কোন ল্যাব না থাকায় দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তাই নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে সক্রিয় হয়।

কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পর্যাপ্ত লোকবল এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও করোনা শনাক্তকরণের জন্য আরটি-পিটিআর মেশিন না থাকায় বিপত্তি দেখা দেয়। একই সাথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কীট দরকার পড়ে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবরে গত ৩১ মার্চ আবেদন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করতে থাকেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নোয়াখালীর সভাপতি এবং কলেজের সহকারী অধ্যাপক কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. ফজলে এলাহী খাঁনসহ চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালীতে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরে।

গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস করোনায় আক্রান্ত রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে পূর্ণাঙ্গ বায়োলজিক্যাল ল্যাব স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরদিন ৮ এপ্রিল বুধবার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভ্যানশন-সিডিসি) চার সদস্যের একটি দল এ ল্যাব পরিদর্শন করেন।

এদিকে ৯ এপ্রিল নিজেদের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ল্যাবে করোনা স্যাম্পল পরীক্ষার আগ্রহ দেখায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে এবং নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে পত্র লিখে।

যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম এবং স্বাচিপ সভাপতি ডা. ফজলে এলাহী খান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে দেখা করেন। এ সময় মহাপরিচালক করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে নোবিপ্রবি থেকে এনে আরটি-পিসিআর মেশিন বসানো হলেও ল্যাবে যারা কাজ করবেন তাঁদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বায়ো সেফটি সিস্টেম খুবই জরুরি। সেটি বসানোর বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা বেগম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সম্পন্ন হতে তিন সপ্তাহের মত সময় লেগে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, নোবিপ্রবির নিজস্ব ল্যাব রয়েছে, দেশের এই ক্রান্তিকালে এটি ব্যবহারের জন্য স্বপ্রণোদিত হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবার সাথে যোগাযোগ করে। জেলাবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে নোবিপ্রবি পাশে থাকবে।