দেড় বছর পর ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা

করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হয়েছে সরাসরি ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন সকাল ৮টা থেকে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা সশরীরে ক্লাস করতে ক্যাম্পাসে আসছেন। এদিকে দীর্ঘদিন পর সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পেরে তারা খুবই উচ্ছ্বসিত। কলা অনুষদের সামনে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে নির্দেশিকা সম্বলিত ফেস্টুন বসানো হয়েছে। মাস্ক পরে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছেন। রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেড়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। অনেকের মাস্ক না থাকায় তাদের মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। অনেক দিন পর বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুবই ভালো লেগেছে। কারণ অনলাইন ক্লাসে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

অপরদিকে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরাসরি পরীক্ষা দিতে পেরে শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি, তেমনি পরীক্ষা নিতে পেরে শিক্ষকরাও উৎফুল্ল।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য যে নানা ধাপ ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পেল।

তিনি বলেন, একটি বিষয় খুবই আশাব্যঞ্জক যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিয়েছে তারা সবাই ভ্যাকসিনেটেড। ছেলে-মেয়েরা ক্লাসে ফিরতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশ নিয়েছে এটা সারা জাতির জন্য অনুকরণীয়। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, লস-রিকভারি প্লান অনুসরণ করে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হবে।

ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক ডা. সরোয়ার জাহান মুত্তাকী বলেন, আমাদের কাছে কোভিড আক্রান্ত হয়ে কেউ আসেনি। তবে হালকা জ্বর-সর্দি নিয়ে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী সেবা নিয়েছেন। এটা ঋতু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। আবার অনেকে বাড়ি থেকে দীর্ঘপথ ভ্রমণ করে আসার কারণেও হচ্ছে।