পুঠিয়া থানার ভেতরেই দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

রাজশাহীর পুঠিয়ায় মেয়রের বাড়িতে পটকা ফুটানোকে কেন্দ্র করে থানার ভেতরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সদ্য নির্বাচিত সাংসদ ও সাবেক সাংসদ গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক বলেন, পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারার সবচেয়ে কাছের লোক। এবার দারা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় মেয়র (সদ্য সাংসদ) মনসুর রহমানের পক্ষে কোনো কাজ করেনি। যার কারণে মেয়রের কেন্দ্রে নৌকা পরাজিত হয়। আর এর জের ধরে গতকাল রাতে দুর্বৃত্তরা মেয়রের গন্ডগোহালী গ্রামের বাড়িতে পটকা ফুটিয়ে চলে যায়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মেয়র রবি তার প্রতিবেশী অতিউর রহমান (৪৫) ও তার ছেলেকে লিমনকে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে গন্ডোগোহালী গ্রামের লোকজন আটককৃত পিতা-পুত্রকে ছাড়িয়ে নিতে আসেন। খবর পেয়ে মেয়র রবি তার বাহিনীর লোকজন নিয়ে থানার ভেতরেই তাদের উপর হামলা চালায়। এতে দু’পক্ষের ২০/২৫ জন আহত হয়।

পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, গতরাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা একটি সাদা মাইক্রোবাসযোগে আমার বাড়িতে দু’টি ককটেল হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে আমি থানায় একটি অভিযোগ দিতে আসি। সে সময় জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ জামায়াত-বিএনপির লোকজন নিয়ে আমার ও আমার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমার পরিবারের ৬/৭ জন সদস্য আহত হয়েছে। তারা আমার ব্যবহৃত গাড়িটিতেও ভাঙচুর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ বলেন, মেয়র রবি তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে দু’জন লোককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ বিষয়টি সুরাহা করতে আমি থানায় আসি। খবর পেয়ে মেয়র একটি বাহিনী নিয়ে থানার মধ্যে থাকা লোকজনদের মারধর করে।      

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দীন আহম্মদ বলেন, হঠাৎ করে থানার ভেতরে দু’গ্রুপের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উর্ধ্ব কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।