মোটা মামা নামক সেই আধ্যাত্মিক ফকিরের লাশ হস্তান্তর

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় লাল মিয়া ফকির (মোটা মামা বলে পরিচিত) নামে সেই ‘আধ্যাতিক’ ফকিরের লাশ অবশেষে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য লাশটি রোববার তার স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে লাল মিয়া ফকির উপজেলার সান্দিকোনা গ্রামের ইনছান মিয়া নামে এক ভক্তের বাড়িতে মারা যান। এরপর লাশ দাফনের জন্য ওই ভক্তের বাড়িতে কবরও খোঁড়া হয়। এর জন্য শনিবার বিকাল ৪টার দিকে স্থানীয় সান্দিকোনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের খেলার মাঠে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু মৃতের স্বজন এবং ভক্তদের মধ্যে লাশের দাফন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে কেন্দুয়া থানার পুলিশ ওইদিন রাতেই লাশটি থানায় নিয়ে যায়। রোববার দুপুরের দিকে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ অবস্থায় মৃতের স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি দাফনের জন্য নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রক্ষিতে জেলা প্রশাসন ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয়। পরে মৃতের ছোট ভাই মোসলেম উদ্দিনসহ পরিবারের লোকজন লাশটি হাসপাতালের মর্গ থেকে বুঝে নেয়।

কেন্দুয়া থানার এসআই আবুল বাশার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, লাল মিয়া ফকির (৮০) ওরফে মোটা মামা বলে পরিচিত ওই ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের চিটুয়া-নওপাড়া গ্রামে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি সান্দিকোনা ইউনিয়নের সান্দিকোনা গ্রামের ইনছান মিয়া নামে এক ভক্তের বাড়িতে মারা যান।

পরে মৃতের স্বজন এবং ভক্তদের মাঝে লাশের দাফন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। শনিবার প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান, ওসি ইমরাত হোসেন গাজী এবং সান্দিকোনা ও পাইকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যথাক্রমে আজিজুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবির চৌধুরীর উপস্থিতিতে সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে দুই পক্ষের বৈঠক হলেও এতে কোনো সুরাহা হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের উদ্যোগে রাতেই লাশটি থানায় নিয়ে আসা হয়।