রাজীবপুরে টেন্ডারের বাইরে গিয়ে গাছ কেটে নিল ঠিকাদার

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের মাধ্যমে রাজীবপুর উপজেলার ডিসি সড়কের স্লুইসগেট থেকে ফায়ার সার্ভিস অফিস পর্যন্ত সড়কের দু'ধারের  কয়েক প্রজাতির ১০০টি গাছ দরপত্রের মাধ্যমে কিনে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত আরও ৫টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ রাজীবপুর-রৌমারী ডিসি সড়কের ১০০টি গাছ  বিক্রি করার  দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে গাছগুলো স্বামী আব্দুস ছালাম ও মেয়ে শারমিন আক্তার এর নামে কিনে নেয় রাজীবপুর উপজেলার জেলা পরিষদের সদস্য রাজিয়া সুলতানা (রেণু)। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় তিনি প্রভাব বিস্তার করে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গাছ কিনে এবং আরও ৫টি গাছ বেশি কেটেছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।        

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের মাধ্যমে গত ৯ জুন ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকায় ১০০টি গাছ ক্রয়ের দরপত্রে পেয়ে ১৫ জুন থেকে শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু করে আব্দুস ছালাম। দরপত্রে বিক্রয় হওয়া গাছগুলো চিহ্নিত করা ছিল। চিহ্নিত গাছগুলো কাটার পর অতিরিক্ত আরও ৫টি গাছ কেটে ফেলে শ্রমিকরা। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। গাছগুলো ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গাছগুলো আটক উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম (বাবু) বাদী হয়ে  রাজীবপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।         

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, টেন্ডার বহিভূত সড়কের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পরিবহনের সময় ট্রলিসহ একটি গাছ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অতিরিক্ত গাছ কাটা হচ্ছে এরকম একটি লিখিত অভিযোগও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

থানায় অভিযোগকারী রাজীবপুর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম (বাবু) বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে নিজের স্বামী ও মেয়ের নামে ১০০ গাছ কাটার টেন্ডার নিয়ে অতিরিক্ত আরও ৫টি গাছ কেটেছেন জেলা পরিষদের সদস্য রাজিয়া সুলতানা (রেণু)। বিষয়টি জানতে পেরে জনস্বার্থে কয়েক জন স্বাক্ষীর নামসহ আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল বলেন, আমার ইউনিয়নে কোনো দরপত্র আহ্বান হলে আমি সাধারণত জানি। কিন্তু ডিসি সড়কের জীবন্ত গাছ কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ টেন্ডার এর মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে শুনেছি। আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

দরপত্রের বাইরে অতিরিক্ত গাছ কর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম বলেন, ৫টি গাছ নয় শ্রমিকরা ভুল করে ১টি গাছ বেশি কেটেছে। তার স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য রাজিয়া সুলতানা রেণুর সাথে এবিষয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, জেলা পরিষদ ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। অতিরিক্ত গাছ কর্তনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলবো।