রাজীবপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ডুবে শহরও

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। লাগাতার পানি বৃদ্ধির ফলে ডুবে গেছে গেছে রাজীবপুর উপজেলা শহরের দোকানপাট, উপজেলা পরিষদ চত্বরেও পানি প্রবেশ করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।     

বন্যায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। উপজেলা পরিষদ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত কোন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়নি।

সেমবার সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র ও সোনাভরি নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পানি ঢুকে পড়ে। উপজেলা শহরের নামা বাজারের দোকনগুলোতেও পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কৃষকের পাটক্ষেত অথৈ পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাটতে পারছে না। বানভাসীরা সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছে গবাদি প্রাণী নিয়ে। খাদ্যের অভাব ও পানিতে থাকায়  নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রাণীগুলো। বন্যার পানি উঠায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।     

কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ছক্কু বলেন, আমার ইউনিয়নে গত কয়েকদিন থেকে বন্যার পানিতে ৬ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি। ১৫০ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ইউএনও স্যারের কাছে ত্রাণের কথা বললে দেই দিচ্ছি বলে। আজকে পিআইও ডেকেছিল এক টন চাল নিতে, আমি নেইনি। এত স্বল্প চাল নিয়ে বানভাসিদের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব না।
 
রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল জানান, তার এলাকার ১৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি। শতাধিক বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। তিনিও ত্রাণ পাননি বলে জানান।

ত্রাণ বিতরণ না হওয়ার বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো বলেন, ত্রাণের জন্য চালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

বন্যার্তা মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরনে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। আগামীকাল মঙ্গলবার সব ইউনিয়নে মেডিকেল টিমসহ বন্যার্তদের মাঝে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে।