নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, জনমনে আতঙ্ক

রাজধানী ঢাকার ডেঙ্গু এখন আশে পাশের জেলা শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই দু-একজন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নরসিংদী সদর হাসপাতালে কমপক্ষে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এরমধ্যে তিনজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। সাতজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে চারজন। এছাড়াও নরসিংদীর কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে বেশকিছু ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় নরসিংদীর ব্যাপক জনগণের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সচেতন লোকজন বলছে, সামনে ঈদ উল আযহা। কোরবানি উপলক্ষে ঢাকা থেকে সকল মানুষই গ্রামে-গঞ্জে ছড়য়ে পড়বে। আর এতে ডেঙ্গুও ছড়িয়ে পড়বে গ্রামে গঞ্জের সর্বত্র। সরকার এ সময়ে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করবে। তখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ব্যাপক বেগ পেতে হবে। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উৎকন্ঠায় রয়েছেন নরসিংদীর সরকারি বেসরকারি চিকিৎসকগণও।

তারা বলছেন, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আগেই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নির্মূল করতে হবে। নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সৈয়দ আমিরুল হক শামীম ডেঙ্গুকে কোনোক্রমেই আশেপাশের  জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকার ডেঙ্গু রোগীগুলোকে ঢাকার ভিতরেই কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতলে ভর্তিকৃত রোগীদেরকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মোস্তফা কামাল খান বলেন, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থা নেই। রক্তের প্লাটিলেট ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করলে রোগীদেরকে ঢাকায় রেফার্ড করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। অনেক রোগীর আইসিইউ দরকার হয়। নরসিংদীসহ রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে আইসিইউর ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করলে জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

বিএমএ, নরসিংদীর সভাপতি বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক মোজাম্মেল হক কমল জানিয়েছেন, ডেঙ্গুকে যতটা ভয়াবহ হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে আসলে ততটা ভয়াবহ নয়। সরকারি হিসাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে হাজার পঞ্চাশেক হতে পারে। আক্রান্তের হার অনুযায়ী আক্রান্তের হার অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা খুবই কম। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫/৭ জনের বেশি মারা যায়নি। ২ সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতার কারণে ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে রেখে নিবিড় পরিচর্যা করাই উত্তম। রক্তের পরীক্ষা গুলোতে পজিটিভ পাওয়া গেলে চিকিৎসা করলেই সুস্থ হয়ে যাবে।