পাগল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১১ শিশুকে ধর্ষণ করে 'বড় হুজুর'

শুরুতে পাঁচ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও নারায়ণগঞ্জের ভুইগর এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্তা করার প্রমাণ মিলেছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল হাই এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

২৭ জুলাই এক ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তখন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (বড় হুজুর হিসেবে পরিচিত) মুফতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল হাই জানান, একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি মামলার আসামি মুফতি মোস্তাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, মোস্তাফিজুর রহমান তাবিজ করে পাগল করে দেওয়া ও পরিবারের ক্ষতি করা হবে বলে ভয় দেখিয়ে একেক দিন একেক ছাত্রীকে রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করতো। শুধু মাদ্রাসার ছাত্রীদের নয় তার মাদ্রাসায় পড়তে আসা তার আত্মীয় আট বছরের শিশুকেও একাধিকবার ধর্ষণ করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের সে গত তিন বছরে ১১ ছাত্রীকে তার নিজের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে।