মানিকগঞ্জে ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেল ১৩১ জন

মানিকগঞ্জে এবার পুলিশ কনস্টেবল পদে ১৩১ জন প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রার্থীদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উৎকোচ ছাড়াই তাদের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাবতীয় বিষয় তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, এবার কনস্টেবল পদে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে ২ হাজার ৯০৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে গত ২৮ জুন শারীরিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে ৯৫৯ জন উত্তীর্ণ হন। পরের দিন ২৯ জুন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের মধ্য থেকে ১৩১ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। এদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃতদের মধ্যে ৮৯ জন পুরুষ এবং ৪২ জন নারী। তাদের অধিকাংশই মেধাবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

তিনি বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছতা এবং কঠোরতার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। চাকরি পেতে কোনো প্রার্থীকে কোনো উৎকোচ দিতে হয়নি। এছাড়া কঠোর নজরদারির কারণে দালাল চক্ররাও প্রার্থীদের কাছে চাপতে পারেনি। প্রার্থীদের কারো কাছ থেকে কোনো রকম আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শিবালয়ের উথলী গ্রামের ট্রাকচালক কামাল হোসেনের মেয়ে তানিয়া আক্তার চাকরি প্রাপ্তির বিষয়ে বলেন, 'দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও বাবা-মায়ের আগ্রহে পড়ালেখা চালিয়ে এসেছি। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল পুলিশের চাকরি করব। সেই স্বপ্ন পূরণেই কনস্টেবল পদের জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে ভাবিনি টাকা-পয়সা ছাড়া আমার চাকরিটা হয়ে যাবে।

হরিরামপুরের বহরাতলি গ্রামের বাজারে সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করেন স্বপন রায়। সেই সেলুনের আয় দিয়েই কোনরকমে তাদের সংসার চলে। কোন দিন ভাবেননি তার ছেলে সুব্রত রায় পুলিশের চাকরি পাবেন উৎকোচ ছাড়াই। ছেলের পুলিশের চাকুরি হওয়ায় এভাবেই তার মনোভাব প্রকাশ করেন স্বপন রায়।

সুব্রত রায়ের মতো কামার, জেলে, কৃষক, দিনমুজুর, ট্রাক চালক, ভ্যানচালক, দর্জি,পিতৃহীন সন্তানদের এবার মানিকগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে। চাকরি পেয়ে মহা খুশি তারা।