সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

সুনামগঞ্জে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে দশটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে বন্যা পরিস্থিত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বন্যার কারণে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগের মাঝে আছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূইয়া বলেন, বর্তমানে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এই বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পাঠানো জরুরি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ১৩ হাজার একশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৯৫০, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১৪০০, তাহিরপুর উপজেলায় ৪১০০, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৮৫০ এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ১৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সহায়তায় জন্য সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলায় ১২৩৫ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ২০০ মেট্রিক টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।

এদিকে, বন্যার কারণে সাতদিন ধরে জেলা শহরের সাথে উপজেলার সড়কসহ অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। ২০টি বেশী হাটবাজার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যা আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাওরপাড়ের খেটে খাওয়া দিন মজুর পরিবারের লোকজনের মাঝে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,আনোয়ারপুর-ফতেহপুর,বাদাঘাট-সোহালা সড়কসহ মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির চাপে উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। হাওর পাড়ের বাড়ি ঘরে ঢেউয়ের আঘাতে বিভিন্ন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরপাড়ের লোকজনের অন্যতম পেশা মাছ ধরা এবং বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী লোকজন পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত উপজেলার ২৪ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্থরের ১২টি প্রতিষ্ঠানের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। এ সকল বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি প্রবেশ করেছে।

বালিজুরী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, হঠাৎ করে রাতের বেলা বাড়ি ঘরে ঢলের পানি ঢুকে পড়ে। বর্তমানে পানির মধ্যে আমাদের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেক বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ইকবাল হোসেন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। পানির কারণে জরুরি বিভাগ দ্বিতীয় তলাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের আমরা সবাই সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাওরবাসী। বন্যা আক্রান্ত হাওরপাড় ও মেঘালয় সীমান্তের বন্যায় আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মধ্যে চিড়া, গুড় ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।