ইসলামপুরে ইউএনওর বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের নানা অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) জিয়াউর রহমান সনেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।

কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তার পুরো পরিবার স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি।

অভিযোগে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য ইসলামপুরের ইউএনও মো. মিজানুর রহমান উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়াসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছেন। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিম্নমানের মাত্র ৪০টি শাড়ী তুলে দেন। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিরক্ত হয়ে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেটকে জানালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ৪শ কম্বল প্রদান করেন। এতে মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হলেও ইউএনও মিজানুর রহমান নাখোশ হন।

গত দুই বছর আগে পাথর্শীর মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি পাইলিং ঘাট পর্যন্ত যমুনার বাম তীরে বাঁধ নির্মাণের যাবতীয় ব্যয় পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে মর্মে ইউএনও মৌখিকভাবে আশ্বাস দেন। মৌখিক আশ্বাসে তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করেন। তবে দুই বছর অতিবাহিত হলেও ইউএনও বাঁধ নির্মাণ ব্যয়ের বকেয়া ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এখনো পরিশোধের ব্যবস্থা করেননি।

অভিযোগ, ইউএনও দীর্ঘদিন যাবত তাকে অন্যায়ভাবে কয়েকদফা অপমান ও একবার মারধোর করাসহ কুলকান্দির সকল উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কুলকান্দি ইউপি সচিব এবং সকল ইউপি সদস্যদের সাথে গোপন সমঝোতা সভা করেন। গোপন সমঝোতা সভায় মিথ্যা অভিযোগে ভুয়া রেজুলেশন লিখে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করে তা অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন।  

তিনি ইউএনওর বিরুদ্ধে বেশকিচু দুর্নীতির অভিযোগও তুলেন। তার দাবি, ইউএনও মিজানুর রহমান ২০১৭ সালের শীত মৌসুমে ইসলামপুরের ১১টি ইউনিয়নে শীতার্তদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল বরাদ্দ দিলেও ক্ষমতার অপব্যবহারে শুধুমাত্র কুলকান্দি ইউনিয়নে সরকারি কম্বল বরাদ্ধ দেননি। এছাড়াও কুলকান্দি ইউপি সচিবের মাধ্যমে ভুয়া রেজুলেশনে কুলকান্দির জিগাতলা-৪ গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কাজ না করেও ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়াই সরকারের বরাদ্দকৃত ১৫৮ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৬০ হাজার ৮১৫ টাকা উত্তোলন করেছেন।

ইউএনওর প্রত্যক্ষ মদদে কুলকান্দি ইউনিয়নের সচিব এবং কতিপয় ইউপি সদস্য কুলকান্দির অনুকুলে বরাদ্দকৃত সরকারি টিআর, কাবিখা ও কর্মসৃজন প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করেছেন। ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধ এবং ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রহ্মপুত্র সেতু। অথচ ওইসব অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ইউএনও মিজানুর রহমান নিয়মিত লাখ লাখ টাকা মাসোহারা আদায় করছেন।

জিয়াউর রহমান সনেট বলেন, তিনি গত ২৪ জুলাই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর। তার দায়ের করা সকল অভিযোগ শতভাগ সঠিক বলেও দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান সনেটকে কুলকান্দি ইউপির চেয়ারম্যানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মিথ্যা অভিযোগ করতেই পারে। বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান যেখানেই অভিযোগ করুক তা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিবেন।

জিয়াউর রহমান সনেটের আনীত অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ইউএনও।