সমুদ্রে গোসলে নেমে এক বন্ধুর মৃত্যু, আরেক বন্ধু নিখোঁজ

কোরবানির ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসে কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে এক বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর বন্ধু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ সময় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সৈকত থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ভাটার সময় এ নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। সৈকত থেকে উদ্ধার শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিখোঁজ তরুণকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

মৃত মোহাম্মদ রফিক (২১) রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। নিখোঁজ নিখোঁজ আরিফুল ইসলাম (২১) শহরের বৈদৈর ঘোনা এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে এবং রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী।

দুইজনেই কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৫ ব্যাচ ও ২০১৭ ব্যাচের কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তারা বন্ধু। গত দুইদিন আগে রাজশাহী থেকে ঈদের ছুটিতে তারা গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সাগরে গোসল করতে নামেন।

সৈকত থেকে উদ্ধার ইফতারুল শাহীন ও জাজি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অধ্যয়নরত বন্ধুরা ঈদের ছুটিতে শুক্রবার সৈকতে বেড়াতে আসে। এদের মধ্যে আট বন্ধু ফুটবল নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে খেলতে যায়। ফুটবল খেলে সবাই গোসল করতে নামে। এ সময় অসাবধানতাবশত পাঁচজন চোরাবালিতে আটকা পড়ে। তিনজনকে কোনোমতে উদ্ধার করা গেলেও আরিফ ও রফিক নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে রফিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, সকালে নিখোঁজ দুই ছাত্রসহ ৮ থেকে ১০ জন লাবনী পয়েন্টে বালিরচরে ফুটবল খেলে। খেলার এক পর্যায়ে সবাই সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরে উত্তাল ঢেউয়ে টানে ভেসে যায়। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় লাইফগার্ড কর্মীরা সাগরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আহমেদ (২১), ইমরুল শাহেদ (২১) ও মোবাশ্বেরুল ইসলাম (২১) কে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তিনি জানান, এ সময় আরও দুইজন ছাত্র নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নিখোঁজ ছাত্রের উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লাইফগার্ড কর্মীরা।