গোটা পরিবারের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিল ডেঙ্গু

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সকলের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দাদা বাড়িতে এসেছিলেন স্কুলছাত্রী রুশা মনির (৯) মৃত্যু হয়েছে। সকলের আদরের ছোট রুশা মনিকে ঘিরেই প্রতি বছর সবাই ঈদ আনন্দ করতো। এ বছরও ঈদ করার উদ্দেশ্যে তাই দাদা বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরের গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাশকাঠি গ্রামে বাড়ি আসেছিলো সে।

কিন্তু সর্বনাশা ডেঙ্গু জ্বর সে আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দাদা বাড়িতেই মারা গেছেন রুশা।

তার মৃত্যুকে পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। রুশার মা-বাবা বার বার আদরের মেয়েকে হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের সকলের সেই ঈদ আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
জানাগেছে, ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে জ্বর নিয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসে রুশা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে। শনিবার সকাল ৭টায়  চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মৃত্যুবরণ করে শিশু শিক্ষার্থী রুসামনি।

রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠি গ্রামের রুহুল আমিন হাওলাদারের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে রুশা ছোট। সে ঢাকার ধানমন্ডি রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, কয়েকদিন পূর্বে রুশার জ্বর আসলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকরা তাকে তরল ও পানীয় খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। ঈদে সকলে বাড়িতে আসবে তাই তাকেও বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে আবার জ্বর বাড়লে শুক্রবার সকালে তাকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল রেফার করেন।

তিনি জানান, শেরে বাংলা মেডিকেলে বেড না পাওয়ায় বরিশালের বেসরকারি রাহাত আনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। পরে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রুশা মনির মামা মেহেদি হাসান জসিম বলেন, ঢাকা থেকে আসার পর রুসার শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও মাথা ব্যাথা শুরু হয়। ঢাকায় বসে জ্বরে আক্রান্ত হলেও তা স্বাভাবিক দেখে তারা ঈদের ছুটিতে তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। বরিশাল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর এতো চাপ যে হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা ছিল না। এজন্য তার চিকিৎসায় কিছুটা বিলম্বও হয়েছে।