মিলন হত্যা: এসআইসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের উপস্থিতিতে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। এ ঘটনায় জড়িত কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই আকরাম শেখসহ পলাতক ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী আমলি আদালত ২ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান দায়েরকৃত চার্জশিটটি আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ২০১১ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে ছয় ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করে। কিশোর মিলন ওইদিন সকালে চর ফকিরার নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে চর কাঁকড়া একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে একদল লোক তাকেও ডাকাত সন্দেহে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই মো. আকরাম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিলনকে থানায় না নিয়ে ডাকাত সাজিয়ে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন। এরপর লোকজন নিরপরাধ কিশোর মিলনকে পুলিশের উপস্থিতিতে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে হত্যা করে।

ঘটনার কয়েকদিন পর মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে ওঠে আসে। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে। পরে ২০১৫ সালের  জুলাই মাসের প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি  আতাউর রহমান ভূঁইয়া মামলার তদন্তে ভিডিও চিত্র দেখে হত্যার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ২৭ ব্যক্তি ও চার পুলিশ সদস্যসহ ৩২ জন আসামির সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নোয়াখালীর ২ নং আমলি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল) রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন।  

পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মেদ চলতি বছরের ৯ মার্চ আদালতে এসআই আসলাম শেখসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে আবদুর রাজ্জাক নামে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। এ মামলায় সাতজন বর্তমানে জামিনে রয়েছে।