গুরুদাসপুরে এমপির উদ্যোগে বিনামূল্যে অপারেশন চালু

হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স- ওয়ার্ডবয়দের তৎপরতা অবাক করার মতো। কেন এই তৎপরতা তা জানা গেল একটু পরেই। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হলো ফুটফুটে এক নবজাতককে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল করিম শান্ত এই সিজারিয়ান অপারেশন করেছেন। থিয়েটার থেকে বেরিয়ে তিনি জানালেন- অপারেশনের পর মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছেন।

শনিবার দুপুর তিনটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই অপারেশন কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় দরিদ্র এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ২০০৯ সালে অপারেশন থিয়েটার চালুর সময় দুই একটি অপারেশনের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১০টি বছর। দীর্ঘ সময় পর আবারো চালু করা হয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। এখন গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরিদ্রদের বিনামূল্যে এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল করিম শান্ত বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ কারণে প্রসূতিসহ অন্য রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে ১০/১৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হতো। গরীব রোগীদের পক্ষে এই খরচ বহন করা আসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক সময় বাড়িতে সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে প্রসূতিকে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হয়। আথচ একই অপারেশন এখন হাসপাতালে বিনামূল্যে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূলত স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দসের তৎপরতায় আবারো এই অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এ মাসেই। এরপর থেকে তিনি সিজারিয়ান, অ্যাপেন্ডিক্স, ফিস্টুলা, পাইলসসহ বেশ কয়েকটি অপারেশন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সবশেষ শনিবার দরিদ্র এক প্রসূতির বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে।

সেবাগ্রহনকারী প্রসূতির মা সালেহা বেগম (৪৫) জানান, শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে চিকিৎসক নার্সরা বেশ তৎপর ছিলেন। শনিবার হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশনের কথা জানান। তখন খরচের ব্যপার নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম। চিকিৎসক জানালেন বিনামূল্যে হাসপাতালেই সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে।