কুড়িগ্রাম হাসপাতালের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য এবং অসাদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন নার্স জানান, প্রতি মাসে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে ২০০ জন নার্সের কাছে বিল তৈরি, পিকসেশন তৈরি, শান্তি বিনোদন দু’টি ও অন্যান্য খাতে বিল তৈরির অজুহাতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন আকতারজ্জামান। অফিস সহকারী হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়েছেন তিনি। যে কারণে অভিযোগ দিলেও আমলে নেয় না কর্তৃপক্ষ।

তাদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেইন অফ কমান্ড। ভূক্তভোগীদের দাবি আকতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ বেরিয়ে আসবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহকারী আকতারুজ্জামানের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল। ফুলবাড়ী হাসপাতালে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করার পর সুচতুর আকতারুজ্জামান জানতে পারেন অফিস সহকারী পদে চাকরি করলে ভবিষ্যতে কোনো পদন্নোতি পাবেন না। তাই অবৈধভাবে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পদ পরিবর্তন করে উচ্চমান সহকারী পদ বাগিয়ে নেন।

ফুলবাড়ী হাসপাতালে চাকরি করলেও অল্প কিছুদিনের মাথায় ডিপুটেশনে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যোগদান করেন। জেলা শহরের হাসপাতালে যোগদান করেই শুরু করেন বেপরোয়া অবৈধ উপার্জন এবং অপকর্ম। ইতোমধ্যে জেলা শহরে জায়গা কিনে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রথম তলা সম্পন্ন করেছেন। অল্প সময়ে ব্যাপক ঘুষ-বাণিজ্য ও অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়টি উন্মোচিত হলে কর্তৃপক্ষ তার ডিপুটিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়।

সৎভাবে চাকরি করবে মর্মে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নামমাত্র মুচলেকা দিয়ে আবারো শুরু করেন অনিয়ম ও দুর্নীতি। এতে পুনরায় তাকে পার্শ্ববর্তী উলিপুর হাসপাতালে বদলি করা হয় কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে তিনি উলিপুর হাসপাতালে যোগদান না করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে বেপরোয়া ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ১০০ জনের উপরে সিনিয়র স্টাফ নার্স যোগদানের সময় জনপ্রতি ২/৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের যোগদান করান আকতার।

অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য এবং অসাদাচরণের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অফিস সহকারী আকতারুজ্জামান তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো প্রকার অনিয়মের সাথে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, আমার অফিসের কেউ দুর্র্নীতির সাথে জড়িত থাকলে ছাড় দেব না। অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।