টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তারা দুজনেই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিহতরা হলেন, মো. রহিম উদ্দিন ওরফে রফিক (৩৭) ও মো. আজিজ (২৪)। 

নিহত রহিম উদ্দিন উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপড়ার মধ্যম খাঞ্জরপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে এবং মো. আজিজ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ডেলপাড়া গ্রামের ছালেহ আহমদের ছেলে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিজিবি সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. রহিম উদ্দিন ওরফে রফিক এবং রবিবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. আজিজ নিহত হন।

টেকনাফ-২ ব্যাটলিয়ন বিজিবি কমান্ডার লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান খান জানান, উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল মদিনার জোড়া এলাকায় অভিযানে যায়। এ সময় কয়েকজনকে নৌকা নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে আসতে দেখা যায়। নদীর কিনারায় আসার সঙ্গে সঙ্গে টহল দল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে এ সময় ওই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলি ছোড়ে। এতে দুই বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে টহল দল ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬০ হাজার ইয়াবা, একটি দেশীয় বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও দুইটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। আহত বিজিবির দুই সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে মাদক মামলার আসামি মো. আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সদর ইউপি মহেশখালীয়া পাড়া নৌকাঘাটে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারে পুলিশ একটি টিম নিয়ে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতাল নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিন হাজার ইয়াবা, একটি এলজি ও সাত রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।