এমপির উদ্যোগে গুরুদাসপুরের দরিদ্ররা পাচ্ছেন বিনামূল্যে অপারেশন সুবিধা!

নাটোরের গুরুদাসপুর সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার অন্যতম এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৪ জন গর্ভবতী মায়ের সফল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হলেও রোগীর স্বজনদের কোনো টাকা খরচ করতে হচ্ছে না।

এমনটা দাবি করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা  হাসপাতালের আর এম ও ডা. রবিউল করিম শান্ত। তিনি জানান সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্রের প্রায় শতভাগই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তার দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবির শতভাগ না হলেও বেশীর ভাগই সত্যতার  প্রমাণ পাওয়া যায়।

রোগীর স্বজনরা জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ জরুরি কিছু ওষুধ ছাড়াও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ওষুধ হাসপাতাল থেকেই নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। এতো সস্তায় সফল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার উপজেলার আর কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালেই হয় না বলে জানান তারা।

জানা যায়, উপজেলার  বিভিন্ন ছোট-বড় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হলে হাসপাতালে দুই থেকে তিন দিন থাকা, খাওয়া-দাওয়াসহ সর্বনিম্ন ১৫ টাকার বিল পরিশোধ করতে হয়। খরচ বেশি হওয়ায় অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রোগীদের সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জানাগেছে, সরকারি হাসপাতালটির সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু ২০০১ সালে থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। সর্বমোট ১৩৫টি সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভালো ডাক্তারের অভাব এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি এলাকার অসহায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কথা বিবেচনা করে গত ৫ জুলাই থেকে স্থানীয় সাংসদ নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের হস্তক্ষেপে এই কার্যক্রম আবারও শুরু হয়। ৫ জুলাই থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসে ১৮টি সিজারিয়ান অপারেশন, ফেসটুলা এপেনডিক্স ১২টিসহ মোট ৩০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইনি ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটারে ৪টি অপারেশন হয়েছে। থিয়েটার সংলগ্ন পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে  আলাপকালে উপজেলার  ধারাবারিষা  গ্রামের মো.মাসুদুর রহমান জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও টুকটাক ওষুধপত্র ছাড়া তাদের কোনো প্রকার টাকা পয়সা খরচ করতে হয়নি। তবে জমজ দুটি পুত্র সন্তান এক সাথে জন্ম হবার খুশিতে আয়া, নার্স ও হাসপালে আগত লোকজনের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন তিনি।

উপজেলা সদরের খামার নাচকৈড় মহল্লার রিক্সা চালক মো. মিন্টু হোসেনের স্ত্রী রুমা খাতুন গাইনি বিভাগে ভর্তি হন একই দিনে। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের কোলজুড়ে ছেলে শিশু আসে। কত খরচ হয়েছে, কী কী কিনতে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আজ সকালে ওটি থেকে একটি স্লিপ দেওয়া হয় তাকে। তাতে তার সর্বসাকুল্যে ১ হাজার ৫০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে।

গুরুদাসপুর  হাসপাতলের টিএইচও ডা.মো.মোজাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ কারণে প্রসূতিসহ রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে এসব অপারেশন করাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। গরীব রোগীদের পক্ষে এই খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক সময় বাসা বাড়িতে সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে প্রসূতিকে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হয়। অথচ একই অপারেশন এখন হাসপাতালে নামমূল্যে করা হচ্ছে।