পদ্মা-যমুনায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি, মানিকগঞ্জে কৃষকের মাথায় হাত

মানিকগঞ্জের পদ্মা-যমুনায় বিগত কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে প্রতিদিন ৪/৫ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এতে ডুবে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলসহ ফসলি জমি।

অসময়ে এভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অচিরেই নতুন করে আবাদকৃত জমির সকল ফসল তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।

জানা গেছে, জেলার চরাঞ্চলে করলা, টমেটো, চিচিঙ্গা, লাউ, কুমরা, কপি, মুলা, লালশাক, মুড়িকাটা পিঁয়াজ ও মাসকলাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং আগাম শীতকালীন সবজির বীজতলা তৈরী ও চারা রোপন করার উপযুক্ত সময় এখন। অনেক কৃষকরাই জমি তৈরী করে সবজির বীজ রোপন করেছেন। বিশেষ করে জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর এ তিন উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা ধান-পাটসহ অন্যান্য ফসল রোপন করেছেন। কিন্ত গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় সবজি চাষের জন্য তৈরীকৃত জমি এবং রোপনকৃত সবজির বীজ ও চারাসহ বিভিন্ন ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমের জন্য জেলার তিনটি উপজেলার চরাঞ্চলসহ মোট ১৪০১ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯৪ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। সম্প্রতি নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ১০০ হেক্টর জমির মাসকলাই পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবজির ক্ষয়-ক্ষয়তির পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি বৃদ্ধির ফলে সবজির ক্ষেতসহ আবাদি জমির ফসল তলিয়ে গেছে। অসময়ে নদীতে এরকম পানি বাড়বে এটা ভাবতে পারেনি কৃষকরা। তলিয়ে যাওয়া ফসলের অধিকাংশই দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, আবাদকৃত শীতকালীন সবজির  বীজতলা এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সবজির কোন পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে নদীতে অসময়ে পানি বৃদ্ধির কারণে  ১০০ হেক্টর জমির মাসকলাই পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের সকল ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন তিনি।