আমতলীতে আইনজীবীর স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবি এম ইসহাক বাচ্চুর (৪৫) স্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র ষ্টাফ নার্স দৃপ্তি রানীর (রাবেয়া মুন্নি) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোররাতে আমতলী হাসপাতাল সড়কের তার ভাড়াটিয়া বাসায়। নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুতে তার সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার দাবি করেছেন।

দৃপ্তি রানী (রাবেয়া মুন্নির) ভাই দীপঙ্কর মজুমদার বলেন, আমার ভগ্নিপতি একটি মেয়ের সাথে গত পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওই মেয়েকে বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে আমার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছিল। আমার বোনের মৃত্যুটা রহস্যজনক। আমি এ ঘটনায় বিচার দাবি করছি।   

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স দৃপ্তি রানী উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী এম ইসহাক বাচ্চুর সাথে ২০০২ সালে পরকীয়ায় জড়িয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পরে দৃপ্তি রানী মুসলমান হন। তার নাম রাখা হয় রাবেয়া মুন্নি। বিয়ের কয়েক বছর ভালোই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

গত পাঁচ বছর ধরে ইসহাক বাচ্চু অন্য এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এমন অভিযোগ ছিল রাবেয়া মুন্সির, এ কথা বলেছেন তার সহকর্মীরা। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। কথিত আছে গত এক বছর আগে স্বামী বাচ্চু ওই মেয়েকে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার রাতে তার (আইনজীবীর) এক স্বজন স্ত্রী রাবেয়া মুন্নির কাছে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। বুধবার রাতে এ বিষয় নিয়ে স্বামী- স্ত্রীর মাঝে তুমুল ঝগড়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় স্বামী ইসহাক বাচ্চু ঘুম থেকে জাগেন। কিন্তু তার কক্ষ বাহির থেকে আটকানো ছিল। অনেক ডাকাডাকির পরে মেয়ে ইসরাত জাহান ইভা তার কক্ষ খুলে দেয় বলে জানান ইসহাক বাচ্চু। বাবা ও মেয়ে অন্য একটি কক্ষে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী রাবেয়া মুন্নিকে দেখতে পায়। পরে তারা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নিচে নামিয়ে আনেন এমন দাবি স্বামী ইসহাক বাচ্চুর।

খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আইনজীবী এম ইসহাক বাচ্চু বলেন, পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে রাতে আমার সাথে ঝগড়া হয়। সারা রাত আমরা ঘুমাতে পারিনি। ভোররাতে আমি আমার কক্ষে এবং মেয়ে ওর কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল পৌনে ১০টায় আমি ঘুম থেকে জেগে আমার কক্ষ বাহির থেকে আটকানো দেখতে পাই। ঘরের মধ্যে কারো শব্দ পাইনি। আমার মেয়ে আমার কক্ষের দরজা খুলে দেয়। আমার স্ত্রীকে অন্য একটি কক্ষে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না প্যাচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই এবং আমি ও আমার মেয়ে লাশ নিচে নামিয়ে রাখি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংঙ্কর প্রসাদ অধিকারী বলেন, নার্স দৃপ্তি রানী (রাবেয়া মুন্নি) রহস্যজনক মৃত্যুটা মেনে নেয়া যায় না। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্তপূর্বক পুলিশ প্রশাসনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি জানাই।

আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।