উখিয়ায় এনআইডি কার্ড পেয়েছে রোহিঙ্গারা; বাতিলের দাবীতে স্থানীয়দের প্রশাসনে অভিযোগ

উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া তেলীপাড়াস্থ স্থানীয় মোজাহের মিয়ার খতিয়ান ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের প্রাপ্ত নাগরিকত্ব বাতিলের দাবীতে গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

হলদিয়া পাতাবাড়ী গ্রামবাসীর পক্ষে ছেহের আলীর ছেলে আব্দুল আলম স্বাক্ষরিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নুরুল আলমের স্ত্রী আজিজা বেগম, আইডি নং- ২২১৭৭৯৮৮১৫৮৩; মোজাহের মিয়ার ছেলে ছাবের আহমদ, আইডি নং- ২২১৭৭৯০০০০৫৮; ফারুক আহমদ, আইডি নং- ২২১৭৭৯৮০৭৫৩২; ফজল আহমদ, আইডি নং- ২২১৭৭৯৮৮১৫৮৮; ফজল আহমদের স্ত্রী তাহেরা বেগম, আইডি নং-২২১৭৭৯৮৮১৫১৭; এই ৫ জন মিয়ানমারের নাগরিক। তারা বর্তমানে কৌশলে এদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে হলদিয়া পাতাবাড়ী এলাকায় বসবাস করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগকারী আব্দুল আলম জানান, তারা ২০০৮ সনে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ী গ্রামে আশ্রয় নেয়। একই দালালের মাধ্যমে মোজাহের মিয়ার খতিয়ান ও অন্যান্য ভূয়া আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র দাখিল করে ২০০৮ সনে ভোটাধিকার লাভ করেন। স্থানীয় হওয়ার সুবাদে ওই রোহিঙ্গারা স্থানীয় খাস জমি ও অন্যের বন্দোবস্তকৃত জমিজমা কৌশলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোগ দখলে নিয়ে আসার কারণে স্থানীয় ছিন্নমূল জমিজমাহীন পরিবারগুলো তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজল মেম্বার জানান, তারা প্রকৃত পক্ষে রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা এখানে এসে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে পাড়া প্রতিবেশীর উঠতি বয়সী ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা বিপথগামী হচ্ছে। তাই এদের নাগরিকত্ব বাতিল করার পক্ষে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ব্যস্ত থাকার কারণে সময় দিতে পারছেন না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন অফিসার বেদারুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তিনি উখিয়া ইউএনও’র মাধ্যমে পেয়েছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে ভোটার হয়েছে সেভাবে ভোটাধিকার বাতিল করা হবে। এব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।