গুরুদাসপুরে সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি, কাজ চলছে রাতে

সড়কের বেডের পুড়নো ইটগুলো তোলা হয়েছে। সেই ইটের খোয়া তৈরি করে আবার সড়কেই বিছানো হচ্ছে। সাথে যুক্ত করা হয়েছে পোড়ামাটি ইটের খোয়াও। মানহীন এসব খোয়া ঢাকতে রাতের অন্ধকারেও কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

নাটোরের গুরুদাসপুর-নাজিরপুর সড়কের ৮ কিলোমিটার অংশে চলছে এমন নিম্নমানের কাজ।

নাটোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুরের নাজিরপুর বটতলা থেকে শুরু হয়ে নাড়ীবাড়ি মোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ কাজ চলছে। ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কন্সট্রাকশন কাজটি পায়।

হামলাইকোল গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী জানান, সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই সড়ক খোঁড়াখুরি শুরু হয়। পুরানো এই সড়কের খোয়া তুলে রাখা হয় বেশ কিছুদিন। এতে দূর্ভোগ বাড়ে পথচারীদের। এখন আবার নিম্নমানের খোয়া বিছিয়ে রাতারাতি রোলার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাজের শুরু থেকেই হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠটি দখল করে নিম্নমানের খোয়া, বালি ও পোড়ামাটি ইটের স্তুপ করা হয়েছে। সড়কটি সংস্কারে নিয়ম মানা হচ্ছে না। কিছু জায়গায় সাড়কের পাশ ধসে গেলেও তা ঠিক না করে জোড়াতালির মেরামত করা হচ্ছে।



হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহনাজ রীতা জানান, তাদের চোখের সামনেই নিম্নমানের ইটে খোয়া তৈরি করে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। মানহীন এই নির্মাণকাজের ফলে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া তার বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সমগ্রী রাখায় খেলাধুলাসহ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে চরমভাবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধীকারি সুজিত সরকার মোবাইল ফোনে বলেন, দুই ট্রাক খোয়া নিম্নমানের ছিল। তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে কাজ করার অভিযোগটি অসত্য।

সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী একে এম জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নিম্নমানের সামগ্রীতে সড়ক সংস্কারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।