ওরা ‘নৌকায়’ উঠলেও ভাগ্যে ‘বৈঠা’ জুটেনি!

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিএনপির বহু নেতা-কর্মী ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। রাজনৈতিক ভল্ট পাল্টে ‘বিশেষ সুবিধা’ নিতে ‘ধানের শীষ’ ছেড়ে ‘নৌকায়’ উঠলেও তাদের ভাগ্যে ‘বৈঠা’ জুটেনি। অর্থাৎ আ.লীগের কোনো কমিটিতে তাদের স্থান হয়নি। অনেকেই দলীয় পদ-পদবী না পেয়ে আবার বিএনপিতে ফিরছেন।

স্থানীয় বিএনপি ও আ.লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফিরোজ খান লোহানী,  যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান সুজন, যুবনেতা শামীম ভল্ট পাল্টে আ.লীগে যোগদান করছেন। কিন্তু এখনো আ.লীগের কোনো পদ-পদবী তাদের ভাগ্যে জুটেনি।

এছাড়া উপজেলা গাইবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ মাহমুদ গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে আ.লীগে যোগদান করেছেন। ওই ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা আফসার আলী সরদার, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সাহাবদ্দিন, যুবদল নেতা হাসেম আলী, পল্লীচিকিৎসক শামীম ‘বিশেষ সুবিধা’ নিতে দল বদল করলেও এখনো তারা আ.লীগের কমিটির কোনো পদে আসীন হতে পারেননি।

অপরদিকে, বিএনপি নেতা গাইবান্ধা ইউপির সাবেক মেম্বার হেকমত আলী, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজল হক, ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া ইতোমধ্যে দলীয় পদ-পদবী না পেয়ে বিএনপিতে ফিরেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একদিকে যেমন আ.লীগে ভিড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিএনপির একশ্রেণির নেতা-কর্মী। অন্যদিকে স্থানীয় আ.লীগ নেতারা নিজ নিজ বলয় ভারি করতে বাড়ি বাড়ি গিয়েও ‘ফুলের তোড়া’ গলায় পড়িয়ে বিএনপি নেতাদের বরণ করে দলে ভেড়ান।  

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, রাজনীতিতে ‘শেষ’ বলতে কিছু নেই। এই রীতি বিশ্বাসীরা দু’দিন আগেও জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘গুণকীর্তন’ করতেন। বলতেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’, ‘খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ’ ‘শহীদ জিয়া অমর হোক, ‘স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ অগ্নিশর্মা বিভিন্ন স্লোগানে আওয়ামীবিরোধী সভা-সমাবেশ ও মিছিল সরগম করে তুলতেন। নিজেদের ফাঁয়দা হাসিল করতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ অন্তরে লালন না করলেও আজ তারা বিএনপিবিরোধী ‘আওয়ামী মার্কা’ স্লোগানের জিকির করতে কোনো ধরনের দ্বিধা করছেন না। এ নিয়ে উপজেলা আ.লীগের কাউন্সিলের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়েই চলছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম জানান, দল ক্ষমতায় থাকায় অনেকেই নৌকায় উঠতে চায়। কিন্তু সবাইকে নৌকায় তুলে দলীয় পদ-পদবী দেওয়া যাবে কি-না, তা ভেবে দেখতে হবে।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান কবীর মঞ্জিল জানান, যারা দল করেন, তারা কখনো দল ছাড়েন না। আর যারা দল ছাড়েন, তারা দল করেন না। কাজেই যারা সুবিধাভোগি তাদের নির্দিষ্ট কোনো দল নেই।