আমতলীতে ফের গণডাকাতি, জনতার ক্ষোভ

এক মাসের মাথায় ফের আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক আটকে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল অস্ত্র দিয়ে লোকজনকে মারধর করে সর্বস্ব নিয়ে গেছে। এ সময় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মুখোশ পরিহিত ১৫/১৬ জনের একটি ডাকাতদল গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখে। পরে আমতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস ও একটি মুরগীর বাচ্চার পিকআপ আটকে দেয়। ওই মাইক্রো চালক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ১০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেট এবং মুরগীর বাচ্চার পিকআপের চালককে মারধরে করে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

এর পরপর পটুয়াখালীর দিক থেকে আসা পিকনিকের বাস, বিয়ের যাত্রীসহ তিনটি মাইক্রোবাসে ডাকাতদল হামলা চালায়। তারা ওই গাড়ির লোকজনকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানান ডাকাতের হামলার শিকার বিধান বিশ্বাস। ডাকাতের হামলায় বহুলোক আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডাকাতির খবর পেয়ে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের মহিষকাটা এলাকা থেকে দ্রুত টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল সড়কের দুই পাশে ধান খেত দিয়ে পালিয়ে গেলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একের পর এক চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে সচেতন মহল। ডাকাতির ঘটনায় আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ডাকাতির হামলার শিকার মাইক্রো চালক বিধান বিশ্বাস বলেন, গাড়ি থামানো মাত্রই মুখোশ পরিহিত ৭/৮ জনের ডাকাতদল আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও দশ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে আটকে রাখে। ৭/৮ জনের অপর একটি দল আমার পিছনে একটি মুরগীর পিকআপের চালককে মারধর করে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এরপর আমার গাড়ির সামনে একটি পিকনিকের পরিবহন বাস গাড়ি, একটি বিয়ের মাইক্রোবাসসহ তিনটি মাইক্রোবাস গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ওই সকল গাড়ীতেও কান্নাকাটির  শব্দ শুনেছি। ডাকাতদের হাতে পিস্তল, চাপাতি, ছুরি, রামদা ও বগি ছিল।

বরগুনা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাতেই আমি প্রেট্রোল ডিউটিতে শাখারিয়া নামক স্থানে ছিলাম। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।