ভাতিজিকে ধর্ষণ করল ৩ চাচা, মীমাংসার নির্দেশ দিল এসআই

নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (৮) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী তিন চাচার বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানায়, এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোশারফ হোসেন কিরন সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করলে এসআই বিপুল কুমার ঘোষ ঘটনার তদন্ত করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বার ছায়দুল হককে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বাদ জুম্মা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার মীমাংসার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ভিকটিমের মা জানান, সাবেক ইউপি মেম্বার ছায়দুল হকের বাড়ির আবদুল জলিল হুক্কুর ছেলে মিরণ (২৭) কিছুদিন পূর্বে আমার শিশু কন্যাকে চকলেট হাতে দিয়ে খেলার অজুহাতে ধর্ষণ করে। এরপর সে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার আমার শিশুটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি প্রতিবেশী আবদুল খালেকের ছেলে সাহেদ ও ধর্ষক মিরণের ছোট ভাই মিজান টের পেয়ে ঘটনা লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তারাও একাধিকবার ধর্ষণ করে। বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সাহেদ শিশুটিকে পুনরায় ধর্ষণ করে। সন্ধ্যায় পেট ব্যাথা শুরু হলে মায়ের জিজ্ঞাসায় সে ধর্ষনের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানায়।

ভিকটিম শিশু জানায়, প্রথমে মিরণ কাক্কু আমাকে চকলেট দিবে বলে বাড়ির ভাঙ্গা ঘরে নিয়ে খারাপ কাজ করে। এরপর সে অনেক দিন আমার সাথে কাতুকুতু খেলবে বলে খারাপ কাজ করে। পরে সাহেদ কাক্কু ও মিজান ক্কাকুও ওটা দেখে আমাকে ভয় দেখিয়ে খারাপ কাজ করে। তারা বলেছেন কাউকে এটা জানালে আমাকে মেরে ফেলবে, তাই কাউকে বলতে ভয় লাগতো।

ভিকটিমের মা আরও জানান, ঘটনা জানার পর বুধবার রাতেই ভিকটিমের বাবা সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। থানার এসআই বিপুল কুমার ঘোষ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেম্বার ছায়দুল হককে বিষয়টি সালিশ বৈঠকে মীমাংসা করতে বলেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা গেলে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ছায়দুল হক ছাদু বলেন, এখানে আপনাদের কাজ কি? বিষয়টি সালিশ বৈঠকে মীমাংসা করতে পুলিশ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনারা বাড়াবাড়ি করবেন না।

কাদির হানিফ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহিম জানান, আমি ঘটনার বিষয়ে জানি। ভিকটিমের পরিবারকে থানায় মামলা করার পরামর্শ  দিয়েছি। অতি-উৎসাহী কেউ ঘটনার ধামা-চাপা দিতে চাইলে পুলিশ অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

ঘটনার বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিপুল কুমার ঘোষের সাথে কথা বলা যায়নি।

সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।