আমতলীতে নাজুক বিদ্যালয় ভবন, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করেছে একটি পরিত্যাক্ত ভবনে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এমনটাই আশঙ্কা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীও সংখ্যা ৮০০। শুরুতে একটি টিনের চালা ঘর দিয়ে বিদ্যালয় চললেও ১৯৮৫ সালে একটি একতালা ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০০০ সালে ওই ভবনের ছাদে নিজেদের অর্থায়নে আরেকটি আধা পাকা টিন সেডের ভবন নির্মাণ করে।

বর্তমানে ওই ভবনের নির্মাণকাল ৩৪ বছর। নির্মাণকাল বেশী হওয়ায় ২০১০ সালে ওই ভবনের পিলার, বিম ও পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকুর রহমান ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পাঠদান বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত দুই বছর ধরে ওই ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যান স্কুল কর্তৃপক্ষ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ওই বিদ্যালয় ভবন পরিদর্শন করে ছাদ অপসারণ করা প্রয়োজন মর্মে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের আলোকে ইউএনও মনিরা পারভীন গত ৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারণের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারণ করেনি।

সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষা ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শেষ করেছেন।

রবিবার আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের পিলার, বিম ও পলেস্তারা ধসে পড়ছে। ভবনের ছাদের উপর আধা পাকা টিন সেডের ঘরের উপরে টিনের চালা নেই। ভগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহতেসামুল হক সামস, আনিকা, আলভি, সিয়াম ও ঐশর্য্য জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।

আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাশির উদ্দিন বলেন, আসন সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে দুটি ভবন। তার একটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একটি ভবনে ক্লাস নিতে পারছি না। কিন্তু কোথায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব তা ভাবছি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনের অবস্থা শিক্ষা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।