ইয়াবার বিকল্প লোপেন্টা-টাপেন্টা!

সর্বনাশা ইয়াবা-হেরোইন এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির মাংসপেশির রিলাক্সকারী ও ব্যাথা নাশক কিছু ট্যাবলেট। যার ভয়াবহ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে বগুড়ার বহু তরুণ ও যুবক। এমনকি এ ভয়াবহ নেশায় আসক্ত হচ্ছে ছাত্ররাও।

জানাগেছে, বর্তমানে ইয়াবা কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে মাদকসেবীদের একটি বড় অংশ ট্যাপেক্সজিয়া (৫০/১০০ এমজি) টাপেন্টা ( ৫০/৭৫/১০০ এমজি) টেপেন্টাডল (৫০/৭৫ এমজি), পেন্টা (৫০/৭৫ এমজি), পেন্টাডল (৫০/৭৫ এমজি), পেন্টাডল (৫০/১০০ এমজি), সিনটা (৫০ এমজি), লোপেন্টা (৫০/৭৫/১০০এমজি) সহ বিভিন্ন কোম্পানির এসব ওষুধের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

একশ্রেণির অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় ফার্মেমি ব্যবসার আড়ালে চিকিৎসকের কোন প্রকার ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই এই ওষুধগুলি বিক্রয় করছে। এসব ক্রয়ে কোন বাঁধা না থাকায় খুব সহজেই হাতের লাগালে পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রথম কৌতুহল বশত: ঘুম না হওয়া, শরীরের ব্যথা অনুভব সহ বিভিন্ন হতাশা দূর করার কথা বলে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে, ধীরে ধিরে রীতিমতো আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা। আসক্তির কারণে যেমন বাড়ছে স্বাস্থ্য ও অর্থ ঝুঁকি, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে তাদের আগামীর জীবন। সেই সাথে পরিবারে চলছে অশান্তির দাবানল।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছে, এসব ওষুধ সেবনে অনেকে হারিয়ে ফেলতে পারে মানসিক ভারসাম্য।

অনুসন্ধানে জনা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার, মহাস্থান বাজার, সদর বাজার, আমতলী বন্দর, কিচক বাজার, ভায়ের পুকুর বাজার, পিরব বাজার, গুজিয়া বাজার, দাড়িদহ বাজার, মোকামতলা বাজার, রহবল বাজার, বড়িয়ার হাটসহ অনেক জায়গায় অবস্থিত ফার্মেসিগুলোতে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে এসব ওষুধ, এর মধ্যে বিশেষ করে গুজিয়া বাজারে বিক্রয় বেশি হয়। এসব ওষুধের মূল্য ১২-১৫ টাকা। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছে।

এ ধরনের মাদকাসক্ত নিরাময়ে সামাজিক পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি প্রদক্ষেপ কামনা করছে এলাকার ভুক্তভোগী পরিবার।