জামায়াত-মৌলবাদমুক্ত দেশ গড়ার শপথ মুক্তিযোদ্ধাদের

ময়মনসিংহে বিজয়ের ৪৯ বছরের প্রথম প্রহরে উচ্ছাসের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার নিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধের লাখো শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে আপামর জনতার ঢল নামে স্মৃতিসৌধে। দাঁড়িয়ে তরুণদের যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত-মৌলবাদমুক্ত দেশ গড়ার শপথ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে নগরীর ব্রিজ মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত এলাকা। আশপাশের এলাকায়ও ছিল মানুষের ঢল।

সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

প্রথম প্রহরের শুরুতে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপরেই শহীদ বেদিতে সাবেক ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান পুষ্পস্তপক অর্পণ করেন। পরে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  

এরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজ নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ময়মনসিংহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব সেলিম সরকার।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, যুবলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ, জেলা আইনজীবী সমিতি, ন্যাপ, জাসদ শহীদের প্রতি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সালাম গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও সম্মিলিত কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।