বিয়ের ১২ দিনের মাথায় স্বামীর হাতে খুন স্ত্রী

ঘর বাঁধা হলো না নববধূ চম্পার, বিয়ের ১২ দিনের মাথায় স্বামী বাবুল হাওলাদারের হাতে খুন হতে হয় তাকে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নিখোঁজের ১০ দিন পর চম্পার অর্ধগলিত মরদেহ চাকামুইয়া ইউনিয়নের গামুরীবুনিয়া গ্রামের স্বামী বাবুল হাওলাদারের বাড়ির সন্নিকটে একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় চম্পার বাবা চাঁন মিয়া সিকদার বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় জামাতা বাবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জানাগেছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি তালতলী উপজেলার কলারং গ্রামের চাঁন মিয়া সিকদারের কন্যা চম্পার পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার চাকামুইয়া ইউনিয়নের গামুরীবুনিয়া গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে বাবুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। গত ১৫ জানুয়ারি (বুধবার) নববধূকে তুলে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১২ জানুয়ারি (রবিবার) রাতে স্বামী বাবুল হাওলাদার শ্বশুরবাড়িতে এসে নববধূ চম্পাকে বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নববধূ চম্পা ও তার স্বামী বাবুলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় চম্পার বাবা চাঁন মিয়া সিকদার গত ১৪ জানুয়ারি তালতলী থানায় জামাতা বাবুলের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু তালতলী থানা পুলিশ চম্পাকে উদ্ধার ও জামাতা বাবুলকে গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো এ ঘটনার সাথে জড়িত বাবুলের বড় বোনের জামাই মাহবুব গাজীকে তালতলী থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেলে ওসি শেখ শাহিনুর রহমান কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেয়।

চম্পার বাবা জানান, তালতলী থানার ওসি দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তার মেয়ের এ অবস্থা হত না। ওসির গড়িমসির কারণেই জামাতা বাবুল, জামাতার প্রথম স্ত্রী কহিনুর ও মাহবুব গাজীসহ তার সহযোগীরা সুপরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করেছে। তিনি ওসির গড়িমসির কারণ খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলার চাকাম্ইুয়া ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন অভি বলেন, স্থানীয় লোকজন মাঠে গরু চরাতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে আমাকে জানায়। পরে স্থানীয় চৌকিদার ও লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মাটি চাপা দেয়া মরদেহের মুখমণ্ডল দেখতে পাই। পরে কলাপাড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নববধূ চম্পার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি ও আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে তালতলী থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।