কাশিয়ানীতে শিশুকে গলাকেটে হত্যা, ধারণা ধর্ষণ, আটক ২

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সুমা খানম (৬) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটায় দিকে উপজেলার কুসুমদিয়া গ্রামের পরিত্যক্ত একটি গাছের বাগান থেকে পুলিশ তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমা খানম কাশিয়ানীর উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা গ্রামের মো. মিজান শেখের মেয়ের। সে চাপ্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই রাতেই পুলিশ নিহত শিশুর প্রতিবেশী উপজেলার চাপ্তা গ্রামের মিন্টু মোল্লার ছেলে মো. আজিম মোল্লা (২১) এবং মো. হাসু মোল্লার ছেলে নূর মোহাম্মাদ (১৪) নামে দুইজনকে আটক করেন।

এলাকাবাসীর ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সুমার মা মোছা রেহানা বেগম জানান, সুমাকে প্রতিবেশী মো. হাসু মোল্লার ছেলে নূর মোহাম্মাদ (১৪)  বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় সুমা বাড়িতে ফিরে না আসলে তিনি নূর মোহাম্মাদের কাছে সুমা কোথায় জানতে চাইলে সুমা বাড়িতে চলে এসেছে বলে জানায়। অনেক খোঁজাঁখুজির পর সুমাকে না পেয়ে পিতা মিজান শেখ রাতেই কাশিয়ানী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে পাশের গ্রাম কুসুমদিয়ার একটি পরিত্যাক্ত ভিটায় সুমার গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

কাশিয়ানী থানার এসআই গনেশ বিশ্বাস জানান, কাশিয়ানী উপজেলার চাপ্তা রেল স্টেশন থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোন সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকেরা। এক পর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে কুসুমদিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় সুমার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সুমার শরীরের গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। হত্যাকারীরা ওই শিশুর মুত্যু নিশ্চিত করতে পায়ের রগ কেটে দেয়।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে ।