ডোমারে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের অপহরণ মামলা

নীলফামারী জেলার ডোমারে নব-মুসলিম জান্নাতি বেগম জয়া (৩১) কে তার নিজের ভাই-বোন অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তার বোন ও ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী নারী।
উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পশ্চিম বোড়াগাড়ী দোলাপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। জান্নাতি বেগম দোলাপাড়া গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের স্ত্রী।
মামলার এজাহারে জান্নাতি অভিযোগ করেন, তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই তিনি মো. খলিলুর রহমানকে ইসলামি শরীয়তে বিয়ে করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার অপরাধে তার উপর নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে তার পরিবারের সদস্যরা।
তিনি আরও জানান জান্নাতি জানান, পামুলী দেবীগঞ্জের মনভোলার ছেলে রবিন চন্দ্র (৪৫), ধুলাঝারি এলাকার রঞ্জিত চন্দ্র (২৫), মাখন চন্দ্র (৪৮), বোড়াগাড়ী গ্রামের মহানীল রায় (৪৫), নিলিমা রানী (৩৫), হলহলিয়া গ্রামের অরুন চন্দ্র (৩৫), জোড়াবাড়ী গ্রামের শরৎ চন্দ্র এবং বোড়াগাড়ীর তপন চন্দ্র আমাকে ও আমার স্বামীকে প্রকাশ্যে এবং মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করে জানায় আমাকে তারা অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, গত ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর আমার স্বামী বাড়ীতে না থাকায় আমার বোন নিলিমা রানী আমার বাড়িতে এসে প্রবেশ করার কিছুক্ষন পরেই একটি কালো মাইক্রোবাসে আসামিরা এসে আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওড়না দিয়ে আমার মুখ বেধে ফেলে। এ সময় তারা নগদ টাকা ও স্বর্ন নিয়ে আমাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধুলাঝাড়ি গ্রামে মাখন চন্দ্রের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরদিন সকালে তারা চাকলা সীমান্ত এলাকার রতীবাড়ী এলাকা দিয়ে আমাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে পায়ে হেটে ভারতে নিয়ে যায়। 

ভারতের শিলিগুড়ি, হলদিবাড়ী, শিব মন্দির, নারায়ন পল্লীসহ নানা স্থানে আটকিয়ে রাখে। সেখানে তারা আমার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা করার পাশাপাশি আমার উপর শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালায়। আসামিগন আমার স্বামীর সহিত যোগাযোগ করে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষটাকা দাবি করে। আমার স্বামী তাদের তিনলক্ষ টাকা মুক্তিপন প্রদান করেন। ইহাতেও তারা আমাকে ছেড়ে না দেওয়ায় আমি কৌশলে তাদের পক্ষ অবলম্বন করে পালানোর চেষ্টা করি এবং গত ২৪ নভেম্বর আমার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে কৌশলে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের দহগ্রাম গ্রামে আসি। সেখান থেকে আমার স্বামী ও পরিবারের লোকজন এসে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে যায়।
ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজার রহমান মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টার পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে জান্নাতী বেগম বাদি হয়ে ১৭ ডিসেম্বর তারিখে ডোমার থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন।