নরসিংদীতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে

নরসিংদীর পলাশে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে মো. সম্রাট (১৬) নামের এক কিশোর।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কৌশলে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী তাতে ধর্ষণের ঘটনার আগের দিনের তারিখ দিয়ে নোটারী পাবলিক সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বাড়ির পাশে একটি ওরশ শরীফের অনুষ্ঠানে যায় ওই ছাত্রীটি। অনুষ্ঠানের ফাঁকে সে একটি দোকানে গেলে পলাশ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আবদুল বাছেদের ছেলে মো. সম্রাট এবং স্থানীয় দুই যুবক নয়ন ও আকরামের মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায়।

ছাত্রীটির পরিবারের লোকজন সারারাত খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরদিন শনিবার সকালে সম্রাটের বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। তখন ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানায় সম্রাট তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। এঘটনায় তারা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করার উদ্যোগ নিলে জিনারদী ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান আজাদের নেতৃত্বে মাঝেরচর এলাকার মদন মিয়া ও পলাশেরচর এলাকার আওলাদের মাধ্যমে আপোষ মীমাংসার কথা বলে গত রবিবার নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ মোমেন নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের ঘোষণা দেন। সেখানে ওই ছাত্রীটির প্রকৃত বয়স গোপন করা হয়েছে। নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও তাতে ধর্ষণের আগের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দিন দেখানো হয়েছে।

ভুক্তভুগী ছাত্রীটির মা বলেন, আমার স্বামী একজন রিকশা চালক। আমরা গরীব ও অসহায়। সম্রাটের পরিবার বিত্তশালী। তাই পয়সার জোরে মেম্বারের মাধ্যমে আমাদের সম্পূর্ণ অমতে উকিলের মাধ্যমে নোটারী পাবলিক করেছে। আমার মেয়ের বয়স প্রকৃতপক্ষে ১২ বছর। কিন্তু নোটারী পাবলিকে আমার মেয়ের বয়স গোপন করে প্রাপ্ত বয়স ১৮ দেখানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তবে আনিত এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া আজাদ বলেন, আমি যখন ঘটনাটি শুনেছি তখন চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। পাশাপাশি তাদেরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলি। নোটারী পাবলিক হয়েছে কিনা আমি কিছুই জানিনা। আমি সবসময় নোটারী পাবলিকের বিরুদ্ধাচরন করি। কারণ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অনেক তথ্য গোপন করা হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এঘটনায় মঙ্গলবার ছাত্রীটির মা একটি অভিযোগ করেছেন। আমরা মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। ছেলেটি পলাতক রয়েছে।