আমতলীতে ছড়িয়ে পড়েছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

বরগুনার আমতলী উপজেলায় নিউমোনিয়া রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৩ দিনে ৭৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে নেই নিউমোনিয়ার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন। ফলে বাজার থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে শিশুদের পুশ করতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় গত ২৩ দিনে ৭৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চাওড়া, হলদিয়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশী দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ জন হলেও বে-সরকারি ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের গ্রাম্য চিকিৎককের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে।

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, ১৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে। নাচনাপাড়া গ্রামের রাবেয়া তার ৩ মাসের শিশু পুত্র হামিমকে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চাওড়া লোদা গ্রামের নাহার বেগম তার ৪ মাসের শিশু কন্যা তাইয়্যেরাকে গত ৪ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চাকামুইয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের এক মাস বয়সি তামিমকে গত ৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তামিমের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, গত পাঁচ ধরে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছি কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোন এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিচ্ছে না। নিউমোনিয়ার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

হামিমের মা রাবেয়া বেগম বলেন, হাসপাতাল থেকে শুধু সুই ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছি না। সকল ধরনের ওষুধ বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী এন্টিবায়োটিক ইনজেকশনের সংকট কথা শিকার করে বলেন, বৈরি আবহাওয়া জনিত কারনে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এন্টিবায়েটির ইনজেকশন নেই তবে সিরাপ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন আনা হবে।