কক্সবাজারের করোনা আক্রান্ত রোগী ওমরাহ ফেরত, বাড়ির সবাই কোয়ারেন্টাইনে

কক্সবাজারে মুসলিমা খাতুন (৬৭) নামে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষে ফিরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মুসলিমা খাতুন করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তিনি যে বাড়িতে থাকতেন সেটিকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সাথে ওই পরিবারে থাকা ৬ জন সদস্যকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তার রিপোর্টে করোনাভাইরাসের জীবাণু পজেটিভ পাওয়া যায়। তার পরেই তার বাড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থাকতে বলা হয় প্রশাসন থেকে। 

করোনা ধরা পড়া ওই বয়স্কা মহিলা চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার মরহুম রশীদ আহমদের স্ত্রী এবং তার ছেলে কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান ও তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদের মামী।

জানা যায়, মুসলিমা খাতুন নামের ওই বয়স্কা রোগী কয়েকদিন আগে থেকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার রোগের লক্ষণে করোনাভাইরাস মনে হওয়ায় তার শরীরের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে তার রিপোর্ট ঢাকা থেকে কক্সবাজার পাঠানো হয়। সেখানে তার রিপোর্টে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পজেটিভ পাওয়া যায়। 

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ওমরা থেকে বাড়ি ফিরেই তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি একই সাথে সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথায় ভুগেন। তাকে ১৮ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তার করোনা হয়েছে বলে সন্দেহ করেন।

চট্টগ্রাম, খুটাখালী ও কক্সবাজার শহরের তিন বাড়িতেই উঠেছিলো করোনা আক্রান্ত রোগী মুসলিমা খাতুন। পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে তার সংস্পর্শে এসেছে অনেকেই।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, পুলিশ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন করেছে। বাড়ির সামনে সচেতনতার জন্য কোয়ারেন্টাইন ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত ও চিকিৎসার বিষয়টি সিভিল সার্জন দেখবেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজারে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীটি বিদেশফেরত। আমাদের স্থানীয়দের মধ্যে কেউই আশঙ্কার মধ্যে নেই। তারপরও সবাইকে কোনোভাবে সতর্কে অবহেলা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।