আমতলীতে পুলিশ হেফাজতে আসামির রহস্যজনক মৃত্যু

বরগুনার আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের থানা হাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবিকৃত তিন লক্ষ টাকা না দেয়ায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। 


বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আমতলী থানা হাজতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে গত বছর ৩ নভেম্বরে ইব্রাহিম নামের একজন কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা । ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলার শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে সহেন্দভাজন আসামি হিসেবে আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। তাকে ধরে নিয়ে আসার পর আমতলী থানা ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামির পরিবারের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে তার পরিবার। টাকা না পেয়ে আসামি শানু হাওলাদারকে থানা হাজতে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেয়ে আসামির ছেলে সাকিব হোসেন গত মঙ্গলবার ওসি আবুল বাশারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। কিন্তু তাতেও তিনি তুষ্ট হননি। নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। পরে বৃহস্পতিবার থানা হাজত থেকে শানু হাওলাদারের মৃত্যুর খবর জানায় পরিবারকে।
পরে লাশ ময়তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ সুপার থানা হাজতে দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, নিহত শানু হাওলাদারের শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না। 

এ ঘটনার তদন্তকারী প্রধান বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই মো. আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। তিনি আরো বলেন, অপরাধী যেই হোক নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।