'কাজে না আসলে বাড়িতে চুলা জ্বলে না'

কাজে না আসলে বাড়িতে চুলা জ্বলে না, ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকে, তাই কাজে এসেছি। করোনার ব্যাপারে আমরা জানি। এই রোগে মানুষ মারা যায়, একজনের হলে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় তাও জানি। তারপরও আমাদেরকে কাজে আসতে হয়েছে। আমরা কাজে না আসলে না খেয়ে থাকবো, কেউ আমাদের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে না। নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাই কাজে বেড়িয়েছি। এভাবেই বলছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের বিলে চিনাবাদামের জমিতে কাজ করতে আসা দিনমজুররা। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ওই এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক দিনমজুরকে দেখা যায় কাজ করতে।

করোনা থেকে বাঁচতে সব শ্রেণি পেশার লোকজনকে ঘরে থাকার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারী সাধারন ছুটিও ঘোষনা করেছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিত তা কেবল মাত্র শহর বা বড় বড় বাজার গুলোতে মানতে দেখা গেলেও গ্রামে কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি। অভাব অনটনের কারনে দিনমজুররা কাজ করছেন স্বাভাবিকভাবেই। তবে করোনা যদি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা মহামারি আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জনগনকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরমর্শ দিচ্ছে। করোনা ঝুঁকি থাকার পরও আর্থিক সংকটের কারণে দিনমজুররা কাজ করছেন।