করোনা আতঙ্ক, এবার গোল মরিচ-আদা-কালোজিরা খাওয়ার হিড়িক

গোল মরিচ, আদা ও কালোজিরা খেলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এমন গুজব ছড়িয়েছে গাইবান্ধায়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল থেকে জেলায় এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

পরে তা ধীরে ধীরে গ্রাম থেকে পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন গণহারে গোল মরিচ, আদা ও কালোজিরা খাওয়া শুরু করেন। এমনকি গ্রামের দোকানগুলোতে গোল মরিচ, আদা ও কালোজিরা কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

ঘটনার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কোন এক গ্রামে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে করোনা ভাইরাসের ঔষধ হিসেবে গোল মরিচ, আদা ও কালোজিরা খাওয়ার কথা বলে তৎক্ষণাৎ শিশুটি মারা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গল্প মানুষের মুখে মুখে রটে যায়। অনেকেই এটি বিশ্বাস করে গোল মরিচ, কালিজিরা এবং আদা খাওয়া শুরু করেন।

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.আসাদুজ্জামান বলেন, এটি একটি গুজব, কালোজিরা, গোল মরিচ ও আদা শরীরের জন্য উপকারী তবে এর সাথে করোনা ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি গুজবে কান না দিয়ে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার ও হ্যান্ড ওয়াশ কিংবা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতে থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য দেশে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েচ্ছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। অর্থাৎ দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নতুন আক্রান্ত পাঁচজনই পুরুষ। এদের দুজনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দুজন ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে, একজন ষাটোর্ধ্ব। একজন বিদেশফেরত। তিনজন অন্য রোগীর সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন। একজনের বিষয়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে।