ধর্ষণের পর খুন করে মসজিদে নামাজ পড়ান মুয়াজ্জিন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাকমিনা (২০) নামে এক যুবতীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে একই গ্রামের মুয়াজ্জিন ও তার বন্ধুরা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই যুবতীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে হত্যা করে মুয়াজ্জিন ও তার বন্ধুরা। 

নিহত তাকমিনা পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে এবং হত্যাকারী মো. আশিকুল স্থানীয় আঠারদানা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র।

জানা যায়, নিহত তাকমিনার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আশিকুল নামে ওই মুয়াজ্জিনের সাথে। আশিকুল সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার দিকে তাকমিনাকে মোবাইল করে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে আসে। কৌশলে সেখানে তাকমিনাকে ধর্ষণ করে আশিকুল। পরে সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তার দুই বন্ধু। তার দুই বন্ধু আশিকুল তিন জন মিলে তাকমিনার হাত পা মুখ বেঁধে ফেলে। হাত পা বাধার পর আশিকুল তার মাথার পাগড়ী দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে। পরে টেনে হিচড়ে তাকমিনার লাশ একটি জাম গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

এর কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেয়ার সময় হলে আশিকুল মসজিদে গিয়ে ফজরের আজান দেয়। ওই দিন মসজিদের ইমাম না আসার কারনে ফজরের নামাজে ইমামতি করেন আশিকুল। এ সময় তার দুই বন্ধুও তার পিছনে নামাজ পড়েন।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাকমিনার লাশ একটি জামগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তাকমিনার লাশ গাছে ঝুলানো থাকলেও পা মাটিতে লেগে ছিল। পাশেই পড়েছিল তাকমিনার মোবাইল।

মুসল্লিরা লাশটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম রিয়েলকে জানায়। পরে রিয়েল গফরগাঁও থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার।

পরে ওই দিন বিকালে তাকমিনার বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন

এ ব্যাপারে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি । তবে বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না। পরে ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের বিস্তারিত বলা হবে বলেও জানান তিনি।